
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নতুন পন্টেজ চার্জ (সেতু, কালভার্ট বা ওভারপাস ব্যবহারের জন্য ধার্য অতিরিক্ত ফি) যুক্ত হওয়ায় ট্রেন ভাড়া বাড়ছে। সরাসরি টিকিটের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ২০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ভাড়া ৫ থেকে ২২৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালে সর্বশেষ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এরপর কয়েকবার ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনরোষের কারণে তা স্থগিত হয়েছিল। এবার সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে পন্টেজ চার্জের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আগের সরকারের সময়ে কয়েকবার ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনরোষের আশঙ্কায় তা থেকে সরে আসে রেলওয়ে। এবার কৌশল হিসেবে সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ২৫ নভেম্বর রেলওয়ের উপপরিচালক (মার্কেটিং) শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২০ ডিসেম্বর থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
চিঠিটি পাঠানো হয় পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের কাছে। পরে ৮ ডিসেম্বর সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া চিঠিটি জনস্বার্থে প্রচারের অনুমোদন দেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেলের ভাড়া সর্বশেষ ২০১৬ সালে বাড়ানো হয়েছিল। পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি রেলওয়ে অবকাঠামো স্থাপনের পর পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হলেও পূর্বাঞ্চলে তা করা হয়নি।
এখন পূর্বাঞ্চলের মাত্র ১১টি সেতুর জন্য পন্টেজ চার্জ যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা বাড়ছে। সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া কম বাড়ানো হয়েছে।’ পূর্বাঞ্চলে ছয়টি রুটের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। রুটগুলো হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ।
আগে এই রুটে দূরত্ব ধরা হতো ৩৪৬ কিলোমিটার। পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ার পর তা হয়েছে ৩৮১ কিলোমিটার। ৩৫ কিলোমিটার বাড়ায় মেইল ট্রেনের ভাড়া ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। কমিউটার ও শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৭০ ও ৪০৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯০ ও ৪৫০ টাকা।
আন্ত নগর ট্রেনে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৭৭৭ থেকে ৮৫৭ টাকা, এসি সিট ৯৩২ থেকে এক হাজার ৩০ টাকা এবং এসি বার্থ এক হাজার ৪৪৮ থেকে এক হাজার ৫৯১ টাকা হয়েছে। বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধার ভাড়া ৮৫৫ থেকে বেড়ে ৯৪৩ টাকা হয়েছে। প্রথম বার্থ ও এসি সিটের ভাড়া যথাক্রমে এক হাজার ২৫ থেকে এক হাজার ১৩৩ টাকা এবং এক হাজার ৫৯০ থেকে এক হাজার ৭৪৬ টাকা হয়েছে।
কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া এক হাজার ৩২২ থেকে বেড়ে এক হাজার ৪৪৯ টাকা হয়েছে। এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ৫৯০ থেকে এক হাজার ৭৪০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া দুই হাজার ৪৩০ থেকে বেড়ে দুই হাজার ৬৫৬ টাকা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ২২৬ টাকা বেশি।
মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ থেকে ১৪০ টাকা, কমিউটার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ৪১০ টাকা করা হয়েছে। স্নিগ্ধার ভাড়া ৭১৯ থেকে বেড়ে ৭৮৮ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ থেকে ৯৪৩ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া এক হাজার ৩৩৮ থেকে এক হাজার ৪৬৫ টাকা হয়েছে।
স্নিগ্ধার ভাড়া ৮৫৭ থেকে বেড়ে ৯০৯ টাকা হয়েছে। শোভন চেয়ারের ভাড়া বেড়েছে ২৫ টাকা। প্রথম বার্থের ভাড়া এক হাজার ৮০ থেকে এক হাজার ১৩৭ টাকা, এসি সিট এক হাজার ৩০ থেকে এক হাজার ৮৭ টাকা এবং এসি বার্থ এক হাজার ৫৯১ থেকে বেড়ে এক হাজার ৬৭৮ টাকা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-জামালপুর রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫২৫ থেকে ৫৪৫ টাকা করা হয়েছে। স্নিগ্ধার ভাড়া এক হাজার সাত থেকে এক হাজার ৪১ টাকা, এসি সিট এক হাজার ২০৮ থেকে এক হাজার ২৫৪ টাকা এবং এসি বার্থ এক হাজার ৮৫৬ থেকে এক হাজার ৯২৫ টাকা করা হয়েছে।
ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া বাড়েনি। কমিউটার ভাড়া ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, শোভন চেয়ার ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৭৮ থেকে ৪৮৯ টাকা, এসি সিট ৫৭৫ থেকে ৫৮৭ টাকা এবং এসি বার্থ ৯০৭ থেকে ৯২৪ টাকা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন