
আবারো টিআইবি পুরস্কার অর্জন করেছে গ্রামের কাগজ। এবছর পুরস্কার পেয়েছেন গ্রামের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সল ইসলাম ও স্টাফ রিপোর্টার আশিকুর রহমান শিমুল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবির “দুর্নীতি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫” এর প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পত্রিকা ক্যাটাগরিতে গ্রামের কাগজের রিপোর্টটি সেরা বিবেচিত হওয়ায় তারা এ পুরস্কার পেলেন।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর “মিনি মেডিকেল কলেজের শহর যশোর, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সনদ কিনে ডাক্তার, নার্স! ”, ১২ ডিসেম্বর “স্রেফ চাপাবাজিতেই চলছে ব্যবসা ” এবং ১৩ ডিসেম্বর “অবৈধ প্রতিষ্ঠান চলছে বছরের পর বছর, খোঁজ রাখে না কেউই” শিরোনামে দৈনিক গ্রামের কাগজে ফয়সল ইসলাম ও আশিকুর রহমান শিমুলের যৌথভাবে লেখা তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ফয়সল ইসলাম ও আশিকুর রহমান শিমুল দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে খুঁজে পান যশোর শহর ও শহরতলীতে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে একটি চক্র ডাক্তার, নার্স তৈরির কারখানা পরিচালনা করছে। প্রমাণ মেলে অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে চলমান প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হাজারও নারী-পুরুষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় দুর্নীতি প্রতিরোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গ্রামের কাগজের প্রতিবেদনটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এর আগেও সাংবাদিক ফয়সল ইসলাম ২০২০ সালে এবং মাতৃত্বকাল ভাতা নিয়ে ২০১৯ সালে গ্রামের কাগজের আটটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আটজন সাংবাদিক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, এম.আইউব, ফয়সল ইসলাম, মোতাহার হোসেন, এসএম আরিফ, উজ্জ্বল বিশ্বাস, মিনা বিশ্বাস ও স্বপ্না দেবনাথ টিআইবি পুরস্কার লাভ করেন।
এদিকে আজ ৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকায় টিআইবির প্রধান কার্যালয়ের মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে একঅনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পুরস্কার প্রদানসহ সম্মাননা জানানো হয়। এর আগে ‘কর্তৃত্ববাদের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে টিআইবি।
উল্লেখ্য টিআইবি এওয়ার্ড ছাড়াও গ্রামের কাগজ, সম্পাদক, ও সাংবাদিকদের রয়েছে নানা অর্জন।
২০১৯ সালে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের “সাংবাদিকতায় সমাজকর্ম” সম্মাননা পান গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। একই বছর তথ্য কমিশন আয়োজিত প্রথমবারের মতো ‘তথ্য অধিকার আইন ব্যববহারের মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চা’ পুরস্কার পান গ্রামের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সল ইসলাম। ২০১৮ সালে এমআরডিআই-এর “বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম শক্তিশালীকরণে গভীরতাধর্মী সাংবাদিকতা” বিষয়ক ফেলোশিপ অর্জন করেন ফয়সল ইসলাম। একই বছর ‘পিআইবি এটুআই গণমাধ্যম পুরস্কার’ অর্জন করেন স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস। ২০১৭ সালেও ‘পিআইবি এটুআই গণমাধ্যম পুরস্কার’ পান গ্রামের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার এস এম আরিফুজ্জামান। একই বছর গ্রামের কাগজের জন্যে ছিল আরও একটি অর্জন। সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন পান ডেইলি স্টার এ্যাওয়ার্ড।
২০১৫ সালে ফয়সল ইসলাম অর্জন করেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম পুরস্কার’। একই পুরস্কার ২০১৪ সালেও ছিল গ্রামের কাগজ হাউজে। অর্জন করেন সহকারী সম্পাদক শাপলা রহমান।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে এ দু’জন পরপর দু’বছর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে আয়োজিত জার্মানির বন শহরে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন।
২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও সেভ দ্যা চিলড্রেন আয়োজিত ‘শ্রেষ্ঠ শিশু পাতা পুরস্কার’ অর্জন করে গ্রামের কাগজ। একই বছর ব্র্যাক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় যহ্ম¥া বিষয়ক প্রতিবেদনে পুরস্কৃত হন গ্রামের কাগজের খুলনা ব্যুরো প্রধান কাজী শামীম আহমেদ ও তৎকালীন চিফ রিপোর্টার জুয়েল মৃধা। এর আগে একই পুরস্কার অর্জন করেন চৌগাছা প্রতিনিধি শাহানুর আলম উজ্জল। ২০১২ সালে কানাডিয়ান অ্যাওয়ার্ড এক্সলেন্সি ফর বাংলাদেশি জার্নালিজম পুরস্কার অর্জন করেন শাপলা রহমান। ২০১০ সালে এরআরডিআই এর মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্যে ফেলোশিপ অর্জন করেন বিশেষ প্রতিনিধি দেওয়ান মোর্শেদ আলম ও ফয়সল ইসলাম।
এছাড়া ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বিষয়ক প্রতিবেদন লিখে ও তা প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে পুরস্কৃত হন স্টাফ রিপোর্টার মিনা বিশ্বাস ও স্বপ্না দেবনাথ। তারা নিউজ নেটওয়ার্ক পুরস্কারও অর্জন করেন। এর বাইরেও গ্রামের কাগজ পরিবারে এসেছে ছোটখাটো অনেক পুরস্কার।
প্রসঙ্গত পুরস্কার অর্জনকারী প্রতিবেদকরা প্রতিবেদনটি সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট সাকমিড’র যশোর জেলায় সিএসও-গণমাধ্যম জোট গঠনের মাধ্যমে তৃণমূলের জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরণ ও তাদের কন্ঠস্বর শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে উদ্ভাবিত ফেলোশিপের আওতায় প্রস্তুত করেন।
মন্তব্য করুন