সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৯ এএম
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর  ¦ ছবি: ফাইল ফটো

৯ ডিসেম্বর, ১৯৭১। যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বিজয় অনিবার্য। যুদ্ধের শুরুতে সুশিক্ষিত পাক সেনাপতিরা ব্যঙ্গ করে বলেছিল, আমরা স্কাউটদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি! কিন্তু মাত্র ৯ মাসেই মুক্তিপাগল বাঙালি দামাল ছেলেদের অর্থাৎ তাদের ভাষায় স্কাউটদের কাছেই এমন মার খেতে হবে, মাথা নিচু করে দু’হাত তুলে প্রাণ বাঁচাতে আত্মসমর্পণ করতে হবে- এটা তাদের কল্পনায়ও ছিল না। বাস্তবে তাই হয়েছে। বিজয়ের ৫৪ বছরে দেশের নতুন প্রজন্ম গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। একাত্তরের এদিন চারিদিকে শুধু পাক হানাদারদের পতনের খবর। ঢাকা থেকে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বেরোবার সব পথ বন্ধ। বন্ধ হয়ে যায় তাদের ঢাকায় প্রবেশের পথও। সর্বত্র মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অগ্রাভিযান। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ঢাকা দখল। বাংলার মুক্তিপাগল বীর বাঙালির কাছে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে প্রশিক্ষিত পাক সেনারা। মাত্র একদিন আগেই বেতারসহ বিমানে হাজার হাজার লিফলেট ছড়িয়ে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় মিত্রবাহিনী। মিত্র ও মুক্তিবাহিনী বীরদর্পে দেশের অধিকাংশ জেলায় বিজয় কেতন উড়িয়ে ঢাকা দখলের জন্য মরিয়া। একটাই লক্ষ্য হানাদার ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয়। তাই চারিদিক থেকে ঘিরে ঢাকামুখি মিত্রবাহিনী।

এদিন বিকেলে মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরা কোলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা এখন ঢাকা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন, পাকিস্তানিরা যদি মাটি কামড়ে ঢাকার লড়াই চালাতে চায় তাহলে আপনি কী করবেন? জেনারেল অরোরা জবাব দিলেন, ওরা (পাকিস্তানী বাহিনী) কী করবে জানি না। তবে আমরা বড় ধরণের লড়াইয়ের জন্যই প্রস্তুত।

সাংবাদিকরা আবারও প্রশ্ন করলেন, ঢাকাকে মুক্ত করার পথে আপনার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা কী? অরোরা জানালেন, নদী। তারপর আবার বললেন, নদী যদিও বড় বাধা, কিন্তু সে বাধা অতিক্রমের সব ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আমাদের পদাতিক সৈন্য এবং রসদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। আর আমাদের পি. টি. ৬৭ ট্যাঙ্কগুলো নিজে থেকেই নদী সাঁতরে যেতে পারবে।

এদিন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় কংগ্রেসের সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের পর এটিই ছিল উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মুক্ত এলাকায় অসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু এবং খাদ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বিজয় অনিবার্য। এটা বুঝতে পেরেও পাক শাসকরা তাদের বন্ধুরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে স্বাধীনতা ঠেকাতে ব্যর্থ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। একই সঙ্গে বাঙালিকে নেতৃত্বশুন্য করতেও গোপণ ষড়যন্ত্র আঁটতে শুরু করে তারা। আর এ পরিকল্পনার প্রধান নায়ক ছিলো স্বাধীনতার প্রধান শত্রু এদেশীয় জামায়াতের রাজাকার-আলবদর-আলশামস।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল, নিহতদের স্মরণ, আহতদের সুস্থতা কামনা

চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

পুরোনো ভবন ভাঙতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

ইউক্রেনের রাতভর রাশিয়ায় শত শত ড্রোন হামলা

রূপদিয়ায় ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজি, আটক ১

৭ বিভাগে মুষলধারে বৃষ্টির আভাস,রাজধানীতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন

যশোর হাসপাতালের সামনে তর্কাতর্কি, যুবককে পিটিয়ে জখম

বিজিবির অভিযানে ৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার

শার্শায় ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

আরজু স্মরেণ বারীনগর বাজারে চক্ষু ক্যাম্প আগামীকাল

ষড়যন্ত্রের বয়ান গণতন্ত্রের বিকল্প নয়

বন্যায় এখন দরকার পূণর্বাসন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ব্যারেলপ্রতি ছাড়াল ৯০ ডলার

গোল্ডেন গ্লাভসের সঙ্গে উনাই সিমনের নতুন ইতিহাস

এমবাপ্পের যে রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম

খুলনায় বিদ্যালয় ভবন ধসে পাঠদানে অনিশ্চয়তা

স্পেনের কাছে হেরে অশ্রুসিক্ত মেসি কী বললেন

কফি বিক্রি করে পড়াশোনা ও সংসার চালাচ্ছে ফাহিম

X