মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ এএম
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর  ¦  ফাইল ফটো

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের আজ অষ্টম দিন। বাংলাদেশ যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাল-সবুজ পতাকার ঢেউ দেশের আনাচে-কানাচে। একের পর এক হানাদার মুক্ত হচ্ছে দেশের অধিকাংশ জেলা। দিশেহারা পাক হানাদাররা। আকাশ-নৌ ও স্থলে শাণিত আক্রমণে দিশেহারা পাক সৈন্যরা। সুশিক্ষিত ও আধুনিক সমরসজ্জায় সজ্জিত হানাদাররা বাংলার কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত। পাক হানাদার ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে। জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে হানাদারদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা।

রক্তঝরা একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর আকাশ বাণীর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান মানেক শ’ বাংলাদেশের দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে একের পর এক জেলা হানাদার মুক্ত করে বিজয় কেতন উড়িয়ে চারদিক থেকে ঢাকায় আক্রমণ করার প্রস্তুতি চলছে অকুতোভয় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর। সারাদেশেই পাক হানাদাররা বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আকাশ ও স্থলে শাণিত আক্রমণে দিশেহারা পাক সৈন্যরা। লাখো প্রাণ আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে একটি নতুন রাষ্ট্রের আলো ছড়াতে শুরু করে। স্বাধীন হয়ে উঠতে শুরু করে বাংলার অবারিত প্রান্তর। পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পেতে মরিয়া মুক্তিপাগল বাংলার দামাল ছেলেরা।

একাত্তরের এদিন সকালে মিত্রপক্ষের সামরিক নেতারা পূর্ব রণাঙ্গনের সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখলেন, তাদের প্রথম লক্ষ্য সফল হয়েছে। বাংলাদেশের নানা খন্ডে পাকিস্তানী বাহিনী বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ। কোনদিক দিয়ে তাদের পালানোর পথ নেই। দক্ষিণে পাকিস্তানী বাহিনীর একটি অংশ আটকা পড়েছে। উত্তরে গোটা পাকিস্তানী বাহিনীও ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার মধ্যবর্তী ৩-৪টি অঞ্চলে অবরুদ্ধ। প্রায় একটি ব্রিগেড হিলির কাছে অবরুদ্ধ। আর একটি ব্রিগেড আটকা পড়ে জামালপুরে। সিলেটের দিকে যে বাহিনীটা ছিল, কার্যত তা খতম হয়ে গেছে। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ আরেকটি ব্রিগেড। আরেকটি পাকিস্তানী বাহিনী অবরুদ্ধ চট্টগ্রামে। একটির সঙ্গে অন্যটির যোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। ঢাকার দিকে পিছু হঠাও কারও পক্ষে সম্ভব নয়।

সার্বিক এই চিত্র অবলোকন করে মিত্রবাহিনী তখন ৩টি ব্যবস্থা নিলেন। ১. গোটা পাকিস্তানী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলো। ২. জেনারেল জগজিৎ সিংকে বলা হলো তাঁর ৩ কলাম সৈন্য দ্রুত ঢাকার দিকে এগিয়ে নিতে। ৩. একটি ব্রিগেডকে হালুয়াঘাটের দিক থেকে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে আসা হলো।

যুদ্ধের শুরুতেই ভারতীয় বাহিনীর প্রধান জেনারেল মানেক শ’ বাংলাদেশের দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। ৮ ডিসেম্বর আবার তাঁর সেই আহ্বান আকাশবাণী থেকে প্রচার করা হয়। জেনারেল মানেক শ’ পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণের কথা বললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ আশ্বাস দিলেন- আত্মসমর্পণ করলে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রতি জেনেভা কনভেশনের রীতি অনুযায়ী সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X