
৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১। ডিসেম্বরের মুক্তিযুদ্ধ এক ভিন্ন মাত্রা পেতে শুরু করে। বর্ষা, শরৎ আর হেমন্ত পেরিয়ে শুরু হয় শীতের মৌসুম। গ্রামবাংলাজুড়ে শীত নামে। কিন্তু শীত নেই মুক্তিপাগল বাঙালির। হানাদারবাহিনীকে পরাজিত করতে দেহের রক্ত যেন টগবগিয়ে ফুটছে।
একাত্তরের রক্তঝরা এই দিনে চারদিকে বীর বাঙালির বিজয়, আর পাকহানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর। দেশের বিভিন্নস্থানে পর্যুদস্ত হতে থাকে উর্দুভাষী হানাদাররা। ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিনই শত্রুর পরাজয়ের ক্ষণ গণনা চলছিল। এক একটি দিনে রচিত হচ্ছিল বাঙালির বিরত্বগাঁথার নিত্যনতুন ইতিহাস। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও মহান মুক্তিযুদ্ধের সেসব বীরত্বগাঁথা ইতিহাস আমাদের নতুন করে বাঁচার আশা জাগায়।
ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দখলদার পাক হানাদারদের পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। পরাজয়ের মুখে পাকিস্তানীরা সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধও শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানীদের ষড়যন্ত্রের দোসর হয়ে ওঠে। কিন্তু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অকৃপণ সহযোগিতায় সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। ৪ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কারণে সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়নি।
একাত্তরের এই দিনে সকালে নয়াদিল্লীতে প্রবাসী সরকার এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধানরা আলোচনায় বসে দেখলেন যৌথবাহিনী ঠিক ঠিকই এগিয়েছে। প্রথমত, তারা কোথাও শহর দখলের জন্য অগ্রসর হয়নি। দ্বিতীয়ত, কোথাও শত্রু পাকিস্তানী ঘাঁটির সঙ্গে বড় লড়াইয়ে আটকে পড়েনি। তৃতীয়ত, পাকিস্তানী সমরনায়করা তখনও বুঝতে পারেনি ভারতীয় বাহিনী ঠিক কোন্ দিক দিয়ে ঢাকায় পৌঁছুতে চাইছে। বরং তখনও তারা মনে করছে ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের মূল পাকিস্তানী ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালাবে।
প্রতিবছরের তুলনায় এবারও নতুন উদ্দীপনায় ও আঙ্গিকে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ পালন করবে বিজয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করছে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, ঘৃণা-ধিক্কার জানাচ্ছে স্বাধীনতার শত্রু এদেশীয় রাজাকার-আলবদর-আলশামস ও তাদের দোসরদের।
মন্তব্য করুন