
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহেই উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করবেন। এতে উপদেষ্টা পরিষদে নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন সমন্বয়ক নির্বাচনমুখী হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, পদত্যাগকারী উপদেষ্টারা বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তারা মৌখিকভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েও দিয়েছেন।
সূত্রমতে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে ভোটার তালিকা। সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের জন্য বুধবার রাতে নাহিদ ইসলামের বাসায় বৈঠক করেছে। দীর্ঘ বৈঠকে একাধিক জোট বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশকে (আপ বাংলাদেশ) জোটভুক্ত করার প্রস্তাব উঠতেই আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে।
বৈঠকে উপস্থিত ৪০ নেতার মধ্যে মাত্র ৩ জন প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। বাকিদের কেউ বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে চান, আবার কেউ এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলেন। ফলে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপির একটি অংশ আশঙ্কা করছে—জোট ইস্যুকে সামনে রেখে দলটি শেষ মুহূর্তে ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পদত্যাগ করেই নির্বাচন করব। নীতিগতভাবে উপদেষ্টা পদে থেকেই নির্বাচন করা ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ঢাকা থেকেই নির্বাচন করতে চান। আগে তিনি কুমিল্লার ভোটার ছিলেন, বর্তমানে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার। এজন্য তার এই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জোর গুঞ্জন চলছে। বিএনপি এখনো এই আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।
জনপ্রশাসনের এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানান যে তিনি পদত্যাগের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। তার একাধিক বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিব্রত করেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
এর মধ্যে ‘এক-এগারোর পদধ্বনি’ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা পোস্ট বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। যদিও পরে কিছু পোস্ট তিনি সরিয়ে নেন।
সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, নভেম্বরের পরও উপদেষ্টা পরিষদের সভা চলবে এবং দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত সংস্কার কাজ থেমে থাকবে না।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের নেপথ্যের কয়েকজন নেতা নিয়ে গঠিত ‘ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)’ দলটি ৯ মে যাত্রা শুরু করে। দলটির আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, আর সদস্য সচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ। অতীত সম্পর্ক ও বিতর্কের কারণে এনসিপির অনেকেই এই দলকে জোটে নিতে অনাগ্রহী।
সূত্র: যুগান্তর
মন্তব্য করুন