
“মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর তিন ভুবনে নাই”—কবি কাজী কাদের নেওয়াজের এই অমর পঙক্তি আজও মায়ের মহিমাকে তুলে ধরে। সত্যিই, পৃথিবীতে মায়ের মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর দ্বিতীয় কেউ নেই।
মা—এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে স্নেহ, মমতা, ত্যাগ ও অনন্ত ভালোবাসার সমুদ্র। শৈশব থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি অনুভূতিতে মায়ের উপস্থিতি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মায়ের আঁচলই মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ১০ মে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি। দিনটি মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য সুযোগ।
বিশ্ব মা দিবসের সূচনা নিয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ধারণা করা হয়, প্রাচীন গ্রিসে মাতৃরূপী দেবী সিবেল এবং রোমান দেবী জুনোর পূজা থেকেই মাতৃত্ব উদযাপনের ধারণার জন্ম।
ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে বহু আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট দিন মায়েদের সম্মান জানাতে পালন করা হতো। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডে এটি “মাদারিং সানডে” নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ক্যাথলিক ক্যালেন্ডারের লেন্টের চতুর্থ রোববারে এটি আরও জনপ্রিয় হয়।
আধুনিক মা দিবস প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হো। ১৮৭০ সালে তিনি “মাদার্স ডে প্রোক্লামেশন” নামে একটি শান্তির আহ্বানমূলক ঘোষণা দেন।
এরপর সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস এবং তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস মা দিবসকে আরও সংগঠিতভাবে পালনের উদ্যোগ নেন। আনা জার্ভিস তার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সরকারি স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন শুরু করেন।
১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি চার্চে প্রথম আনুষ্ঠানিক মা দিবস পালিত হয়।
১৯১২ সালের পর মা দিবস আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশে এটি জনপ্রিয়তা পায়।
পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় ছুটি ও সরকারি মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী এই দিনটি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মা দিবস শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশ্বজনীন দিন। প্রতিটি মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাই এই দিনে সন্তানরা মায়ের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
মন্তব্য করুন