
দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি। বিশেষ করে কৃষক, জেলে এবং মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষরা ঝড়ের সময়ও বাইরে থাকেন, যার ফলে তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।
এছাড়া অনেক অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং বজ্রপাত সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার ঘাটতি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো ঘরের ভেতর থাকা। খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নিচে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভবনের ছাদ বা উঁচু স্থানে যাওয়া উচিত নয়। কংক্রিট বা পাকা ভবনের ভেতর আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাত কাছাকাছি আঘাত করলেও বৈদ্যুতিক প্রবাহ মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশে থাকা মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে যেতে হবে।
বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে যদি থাকেন তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে।
খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তার কাছাকাছি থাকা যাবে না।
বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়াই উচিৎ হবে। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
যদি কেউ গাড়ির ভেতরে থাকে, তবে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না।
আর বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্তব্য করুন