সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কোন তেল কতটা খাবেন? জানালেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রান্নায় কতটা তেল ব্যবহার করা উচিত, কিংবা কোন তেল হৃৎপিণ্ডের জন্য সবচেয়ে উপকারী—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনেই উঁকি দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক তেল বেছে নেওয়া এবং পরিমিত পরিমাণে তা ব্যবহার করা।

আমাদের রান্নাঘরের এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান এই তেল। ফোড়ন, ঝাল, ভাজা—সব ক্ষেত্রেই তেল প্রয়োজন।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল গ্রহণ করলে হৃদরোগের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে তেলের সঠিক মাত্রা ও ধরন জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েল জানান, একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন তেলের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ চা-চামচের বেশি হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট।

সেই হিসেবে একজন মানুষের জন্য মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। চার জনের পরিবারের ক্ষেত্রে মাসে মোটামুটি ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

হৃৎপিণ্ডের জন্য কোন তেল ভালো

ডা. গোয়েলের মতে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল ও জলপাই তেল—এই তিনটি তুলনামূলকভাবে হৃদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে আমাদের দেশে রান্নার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো সরিষার তেল।

কেন সরিষার তেল সবচেয়ে উপকারী

অপরিশোধিত বা কাঁচা সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে বেশি তাপে রান্না হলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না এবং এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। এতে থাকা ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগীদের জন্য ভালো বিকল্প হলেও জলপাই তেলের স্মোক পয়েন্ট কম হওয়ায় এটি আমাদের দেশের রান্নায় খুব বেশি উপযোগী নয়।

কেন রিফাইন তেল এড়ানো জরুরি

পরিশোধিত বা রিফাইন তেল উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘদিন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

এই কোলেস্টেরলই ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের বড় কারণ হয়ে ওঠে।

অতিরিক্ত তেল খাওয়ার ক্ষতি

মাঝে মধ্যে ভাজাপোড়া খেলে বড় কোনো সমস্যা না হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

প্রতিদিন কতটা তেল নিরাপদ

প্রতিদিন : ১৫–২০ মিলিলিটার প্রতি সপ্তাহে : ১০৫–১৪০ মিলিলিটার প্রতি মাসে : ৫০০–৬০০ মিলিলিটার এই পরিমাণ একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে তেল গ্রহণের পরিমাণ আরো কম হওয়া প্রয়োজন। ডা. গোয়েলের মতে, হৃদরোগীদের জন্য মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি পরামর্শ দেন, মোট তেলের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরিষার তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

সঠিক তেল নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়। সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই রান্নার তেলের দিকে বিশেষ নজর দিন।

সূত্র : আজতক বাংলা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

X