
সহিহ বুখারি শরিফে (হাদিস: ১৪১৯) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে দানের সর্বোত্তম সময় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে প্রশ্ন করলেন— হে আল্লাহর রাসুল! কোন দান সওয়াবের দিক থেকে সবচেয়ে বড়?
এর উত্তরে নবী (সা.) বলেন, মানুষ যখন সুস্থ থাকে, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে, দারিদ্র্যের ভয় এবং ধন-সম্পদের আশা নিয়ে জীবনযাপন করে, ঠিক সেই সময়েই দান করা সবচেয়ে উত্তম।
তিনি আরও বলেন, দান করতে কখনো বিলম্ব করা উচিত নয়। কারণ মৃত্যুর সময় এসে গেলে মানুষ বলতে থাকে— এটা অমুকের জন্য, ওটা অমুকের জন্য—কিন্তু তখন সেই সম্পদ আর নিজের হাতে থাকে না, তা উত্তরাধিকারীদের হয়ে যায়।
ইসলামিক হাদিস ব্যাখ্যাকারদের মতে এই হাদিস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়—
১. সুস্থ ও সক্ষম অবস্থায় দান করা উত্তম সুস্থতা, যুবক বয়স এবং সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকা অবস্থায় দান করলে তার সওয়াব ও মর্যাদা অনেক বেশি হয়।
২. দান দেরি করা উচিত নয় ভবিষ্যতে সম্পদ বাড়বে—এই আশায় দান পিছিয়ে দেওয়া অনুচিত। ইসলাম দ্রুত দান করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে।
৩. অসুস্থ অবস্থার দান পূর্ণ মর্যাদা নাও পেতে পারে অনেকে অসুস্থ হয়ে বা মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়ে দান করেন, কিন্তু তখনকার দান মানুষকে কৃপণতার দোষ থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে না।
৪. কঠিন সময়ে আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায় কঠিন পরিস্থিতি বা দুর্দিনে ইবাদত ও দান করলে তার প্রতিদান আরও বৃদ্ধি পায়।
৫. জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে দান করা উত্তম অসুস্থ অবস্থায় অসিয়ত করে দান করার চেয়ে সুস্থ অবস্থায় সরাসরি দান করা বেশি ফজিলতপূর্ণ।
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, দান করার সবচেয়ে মূল্যবান সময় হলো সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনের সময়। ভবিষ্যতের অপেক্ষা না করে আজই দান করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উচিত।
সহিহ বুখারি শরিফের এই শিক্ষা মুসলমানদের দানশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং পরকালের প্রস্তুতির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
মন্তব্য করুন