
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) উম্মতে মুহাম্মাদির মর্যাদা সম্পর্কে গভীর এক সুসংবাদ প্রদান করেন। একটি তাঁবুতে প্রায় চল্লিশজন সাহাবির উপস্থিতিতে তিনি বলেন, তারা কি জান্নাতিদের এক-চতুর্থাংশ হতে চায়? সাহাবিরা সম্মতি জানালে তিনি আবার প্রশ্ন করেন, তারা কি জান্নাতিদের এক-তৃতীয়াংশ হতে চায়? এবারও সাহাবিরা ইতিবাচক উত্তর দেন।
এরপর নবী (সা.) আল্লাহর কসম করে বলেন, তিনি আশা করেন তাঁর উম্মত জান্নাতিদের অর্ধেক হবে এবং জান্নাতে মুসলমান ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করবে না।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য জাতির তুলনায় উম্মতে মুহাম্মাদির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও জান্নাতের মধ্যে তাদের অবস্থান হবে অত্যন্ত সম্মানজনক। কাফিরদের তুলনায় মুসলমানদের উদাহরণকে একটি বিশাল পশুর গায়ে থাকা সাদা পশমের মতো অত্যন্ত কম ও আলাদা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই উপমা দ্বারা বোঝানো হয়েছে, দুনিয়ায় মুসলমানরা সংখ্যায় কম হলেও আখিরাতে তাদের মর্যাদা হবে অত্যন্ত উঁচু।
এই হাদিসটি সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ৬৫২৮) এবং সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ৫৩০)-এ বর্ণিত হয়েছে, যা ইসলামী আকিদা ও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিস থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
১. উম্মতে মুহাম্মাদির বিশেষ মর্যাদা নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে জান্নাতিদের অর্ধেক হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে তাদের মর্যাদা তুলে ধরেছেন।
২. সংখ্যার কম হলেও মর্যাদার উচ্চতা ইসলামের অনুসারীরা পৃথিবীতে সংখ্যায় কম হলেও আল্লাহর কাছে তারা অত্যন্ত সম্মানিত।
৩. সত্যের পথে দৃঢ় থাকা সংখ্যা কম হওয়ার কারণে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কারণ হক সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় না।
৪. নবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসা এই হাদিসে রাসূল (সা.)-এর উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
৫. বিভ্রান্ত না হওয়ার শিক্ষা কাফিরদের সংখ্যাধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়; বরং ঈমানের পথে অটল থাকা জরুরি।
মন্তব্য করুন