সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

পবিত্র আল-কোরআনের দ্বিতীয় সূরা হলো সূরা আল-বাকারা। এই সূরার শেষ দুটি আয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। ইসলামী শরিয়তে আয়াত দুটি পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এ আয়াতের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত শুধু ইমান ও আকিদার মৌলিক বিষয়গুলোই তুলে ধরে না, বরং মুমিনের জন্য দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষাও বহন করে।

হাদিসে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের মর্যাদা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, সূরা ফাতেহা এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এমন এক বিশেষ নূর, যা পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সূরা ফাতেহা এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত আল্লাহ তাআলার বিশেষ নূরস্বরূপ।” (সহিহ মুসলিম: ৮০৬)

অন্য এক হাদিসে হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াতই যথেষ্ট হয়ে যাবে।” (সহিহ বুখারি: ৫০০৯)

আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই আয়াত দুটি রাতের ইবাদত, সুরক্ষা এবং অকল্যাণ থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট।

শয়তান থেকে সুরক্ষার আমল

হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—

“আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। সেখান থেকে দুটি আয়াত নাজিল করে সূরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এই আয়াত দুটি তেলাওয়াত করা হয়, শয়তান সেই ঘরের কাছে আসে না।” (সুনানে তিরমিজি: ২৮৮২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত নিয়মিত তেলাওয়াত করলে ঘর ও পরিবার শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِکَتِهٖ وَ کُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ لَا یُکَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتۡ وَ عَلَیۡهَا مَا اکۡتَسَبَتۡ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا کَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ উচ্চারণ: আমানার রসূলু বিমা উংঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ।

লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া ক্বালূ সামি‘না ওয়া আত্বা‘না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসীনা আও আখত্ব’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরং কামা হামালতাহু আলাল্লাজীনা মিং ক্ববলিনা রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্ব-ক্বতালানা বিহ্। ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল ক্বওমিল কাফিরীন।

অর্থ: রাসূল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের ওপর ইমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তার ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তার রাসূলগণের ওপর, আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব, আমরা আপনারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই (আমাদের) প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো করেছে তার সওয়াব পাবে এবং মন্দ কর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের রব, আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।

আয়াত দুটি পাঠের উপকারিতা ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে— আল্লাহর রহমত লাভ হয়, শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়, রাতের ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হয়, মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সাহায্যের দোয়া করা হয়।

মুমিনের জীবনে এই আয়াত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়াত দুটি পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা

২১ বছর পর মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে বাড়ি ফিরলেন বাগেরহাটের রতন

X