
ইসলামে কিয়ামতের পূর্ববর্তী সময় নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এসব হাদিসে দাজ্জালের আবির্ভাব, হজরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর অবতরণ এবং পৃথিবীর শেষ সময়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিয়ামতের আগের নানা ঘটনা সম্পর্কে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, দাজ্জাল উম্মতের মধ্যে আবির্ভূত হয়ে চল্লিশ দিন, মাস অথবা বছর অবস্থান করবে। তবে এই সময়কাল নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এরপর আল্লাহ তাআলা হজরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন।
হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জাল নিহত হওয়ার পর মানুষ প্রায় সাত বছর শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করবে। তখন মানুষের মধ্যে কোনো শত্রুতা বা বিদ্বেষ থাকবে না। পৃথিবী ভরে উঠবে শান্তি ও নিরাপত্তায়।
এরপর আল্লাহ তাআলা সিরিয়া বা শামের দিক থেকে একটি নির্মল বাতাস প্রেরণ করবেন। এই বাতাসের প্রভাবে পৃথিবীতে যাদের অন্তরে সামান্য ঈমানও থাকবে, তাদের সবার মৃত্যু হবে। এমনকি কেউ পাহাড়ে লুকিয়ে থাকলেও সেই বাতাস তার কাছেও পৌঁছে যাবে।
ঈমানদারদের মৃত্যুর পর পৃথিবীতে শুধু পাপাচারী ও খারাপ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে। তাদের আচরণ হবে হিংস্র পশু ও বন্য প্রাণীর মতো। তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারবে না।
এ সময় শয়তান মানুষের আকৃতিতে এসে তাদের মূর্তিপূজার দিকে আহ্বান করবে। মানুষ শয়তানের অনুসরণ করে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবে এবং পার্থিব ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকবে।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, একসময় শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি প্রথম এই আওয়াজ শুনবে, সে তখন উটের পানির হাউজ ঠিক করার কাজে ব্যস্ত থাকবে। আওয়াজ শোনার সঙ্গে সঙ্গে সে অজ্ঞান হয়ে পড়বে। এরপর একে একে সব মানুষ অজ্ঞান হয়ে যাবে।
পরে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টির মতো কিছু বর্ষণ করবেন, যার মাধ্যমে মানুষের দেহ পুনর্গঠিত হবে। এরপর আবার শিঙায় ফুঁক দেওয়া হলে মানুষ পুনরায় জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকাতে থাকবে।
তখন ঘোষণা দেওয়া হবে— “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ফিরে আসো।” এরপর ফেরেশতাদের নির্দেশ দেওয়া হবে মানুষকে থামাতে, কারণ তাদের হিসাব নেওয়া হবে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এরপর জাহান্নামিদের আলাদা করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে ৯৯৯ জন জাহান্নামে যাবে।
মহানবী (সা.) বলেন, এটাই সেই ভয়াবহ দিন, যেদিন ভয়ের কারণে কিশোরও বৃদ্ধ হয়ে যাবে। কোরআনেও কিয়ামতের দিনের কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা এসেছে।
এই হাদিসটি সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৭৩৮১) ও মুসনাদে আহমদ (হাদিস: ৬৫৫৫)-এ বর্ণিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন