
ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিদের জীবন ছিল ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নির্দেশে একদল সাহাবি সামান্য খাদ্য নিয়ে যুদ্ধযাত্রায় বের হন এবং আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার মহানবী (সা.) সাহাবিদের একটি যুদ্ধাভিযানে পাঠান। দলের নেতৃত্বে ছিলেন উবাদাহ (রা.)। যাত্রার সময় নবীজি (সা.) তাঁদের মাত্র এক ব্যাগ খেজুর দেন, এর বাইরে আর কোনো খাদ্যসামগ্রী ছিল না।
ক্ষুধার সময় সাহাবিরা সেই খেজুরগুলো একে একে গ্রহণ করতেন। এমনকি তাঁরা খেজুর চুষে পানি পান করে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে নিতেন। কখনো গাছের পাতা ভিজিয়ে পান করেও দিন কাটাতেন। সীমিত সম্পদেও তাঁদের ধৈর্য ও ঈমান ছিল অটল।
এক পর্যায়ে তারা সমুদ্রপথ অতিক্রম করার সময় তীরে বিশাল এক প্রাণীর সন্ধান পান, যা ছিল একটি বিশাল আম্বর মাছ (তিমি মাছ)। প্রথমে এটিকে মৃত ভেবে কিছু সাহাবি দ্বিধায় পড়লেও, উবাইদাহ (রা.) ঘোষণা করেন এটি হালাল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক।
নিরুপায় অবস্থায় সাহাবিরা সেটি আহার করেন। প্রায় ৩০০ জন সাহাবি পুরো এক মাস ধরে সেই মাছ থেকে আহার করে সুস্থ ও সবল হয়ে ওঠেন। বর্ণনায় এসেছে, তারা এতটাই পরিপুষ্ট হয়ে ওঠেন যে, মাছের চর্বি সংগ্রহ করতেন এবং গোশত কেটে সংরক্ষণ করতেন। তো একবার আবু উবাইদাহ (রা.) আমাদের থেকে ১৩ জন লোক ডেকে নিয়ে সেই মাছের চোখের এক কোণে বসালেন...।
তারপর সেই মাছের গোশতের টুকরো আমাদের পাথেয় হিসেবে দিলে আমরা তা মদিনায় এসে মহানবী (সা.)-এর কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বললাম। তখন মহানবী (সা.) বললেন, সেটা তো তোমাদের জন্য রিজিক ছিল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য তা বের করেছেন। সেই মাছের কোনো অংশ তোমাদের কাছে অবশিষ্ট আছে? তা থেকে আমাদের খাওয়াতে পারবে? এ কথা শুনে আমরা তার সামনে পেশ করলাম এবং মহানবী (সা.) সেখান থেকে আহার করলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৪৯৯৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর : ১৪৩৩৮)
মন্তব্য করুন