মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জিলকদ মাসের গুরুত্ব, ইতিহাস ও আমল

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
জিলকদ মাসের গুরুত্ব, ইতিহাস ও আমল

ইসলামী ক্যালেন্ডারের একাদশ মাস হলো জিলকদ। এটি ইসলামের চারটি পবিত্র মাসের একটি, যেগুলোতে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাকি তিনটি পবিত্র মাস হলো মহররম, রজব ও জিলহজ। এই মাসগুলোতে শান্তি, সংযম ও ইবাদতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি মাস শুরু হয়। যেহেতু হিজরি বছর সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০-১১ দিন কম, তাই প্রতি বছর জিলকদ মাস ঋতুর সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। মুসলিমদের কাছে এটি মূলত হজের প্রস্তুতির মাস হিসেবে পরিচিত।

ইসলামের ইতিহাসে জিলকদ মাসে বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। যেমন— ১ জিলকদ: ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ৮ জিলকদ: মুসলমানদের জন্য হজ ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হয়। ২৫ জিলকদ: হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম। এ ছাড়াও এই দিনে কাবা শরিফের নিচ থেকে পৃথিবী সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ৫ হিজরি: এই মাসেই খন্দকের যুদ্ধ বা আহজাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ৬ হিজরি: ঐতিহাসিক বায়াতুর রিদওয়ান বা বৃক্ষের নিচে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ৭ হিজরি: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার সাহাবীদের নিয়ে প্রথম ওমরাহ পালন করেন।

পবিত্রতা ও গুরুত্ব

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামে যে চারটি মাসকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। জিলকদ মাসের গুরুত্ব এর ইতিহাস থেকেই স্পষ্ট। কুরাইশদের সাথে মুসলমানদের ১০ বছর মেয়াদি শান্তি চুক্তি বা হুদাইবিয়ার সন্ধি এই মাসেই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ইসলাম প্রসারে প্রধান ভূমিকা রাখে।

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ এই মাসেই উম্মতে মুহাম্মদির ওপর ফরজ করা হয়। বিদায় হজের সময় ঘোষণা করা হয় যে, শারীরিকভাবে সক্ষম ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা বাধ্যতামূলক।

ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও আমল

পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২১৭ নম্বর আয়াতে নির্দিষ্ট চারটি পবিত্র মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। জিলকদ মাস যেহেতু হজের মাস জিলহজের ঠিক আগের মাস, তাই এই সময়টা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। একে সন্ধির মাস বা সব লড়াই থামানোর মাসও বলা হয়।

এই মাসের পবিত্রতা বজায় রাখতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। অন্যান্য মাসের মতো এই মাসেও নফল রোজা রাখা, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত এবং জিকির-আজকারে সময় কাটানো যেতে পারে। জিলকদ মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা রাখারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মূলত হজের সফরের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতেই মহান আল্লাহ এই মাসটিকে সম্মানিত করেছেন। একজন মুমিন মুসলমানের জন্য এই মাসটি হলো আত্মশুদ্ধি এবং পরবর্তী মাসের বড় ইবাদত হজের জন্য নিজেকে তৈরি করার উপযুক্ত সময়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

X