
হজ ও উমরা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতের অন্যতম প্রধান অংশ হলো তালবিয়া পাঠ, যা আল্লাহর প্রতি বান্দার সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ঘোষণা বহন করে।
বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে জানা যায়, রাসুল (সা.) মাথার চুল সজ্জিত অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতেন। তিনি বলতেন— “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইকা...” এবং তিনি এই বাক্যের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো শব্দ যোগ করতেন না।
আরও বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) মীকাতস্থল জুল-হুলাইফায় দুই রাকআত সালাত আদায় করার পর, যখন তার উট তাকে নিয়ে মসজিদের সামনে দাঁড়াত, তখন তিনি সশব্দে তালবিয়া পাঠ শুরু করতেন।
তালবিয়া সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও বিধান
১. তালবিয়া হজ ও উমরার মৌলিক প্রতীক তালবিয়া হজ ও উমরার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়ার (প্রতীক)। রাসুল (সা.) নিজে নিয়মিত এটি পাঠ করেছেন, যা এর গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।
২. সশব্দে তালবিয়া পাঠ করা সুন্নাহ রাসুল (সা.) সশব্দে তালবিয়া পাঠ করতেন। এতে আশপাশের মানুষও উদ্বুদ্ধ হয় এবং ইবাদতের একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
৩. নির্ধারিত শব্দে তালবিয়া পাঠ উত্তম রাসুল (সা.) নির্দিষ্ট শব্দে তালবিয়া পাঠ করতেন: “لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ” তবে অন্য বর্ণনায় সামান্য ভিন্নতা থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এই শব্দগুলোতেই পাঠ করা উত্তম।
৪. মীকাত থেকেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু ইহরামের নির্ধারিত স্থান (মীকাত) থেকেই হজ ও উমরার কার্যক্রম শুরু হয়। তাই নির্দিষ্ট স্থান থেকেই তালবিয়া পাঠ শুরু করা জরুরি।
৫. তালবিয়ার আগে দুই রাকআত সালাত রাসুল (সা.) তালবিয়া শুরু করার আগে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। এটি ইবাদতের জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৬. সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব রাসুল (সা.)-এর প্রতিটি কাজ—সময়, স্থান ও পদ্ধতি—সবই সুন্নাহ। তাই হজ ও উমরার প্রতিটি ধাপে তাঁর অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
তালবিয়া শুধু একটি দোয়া নয়, বরং এটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার এক আন্তরিক ঘোষণা। হজ ও উমরার সময় রাসুল (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে তালবিয়া পাঠ করলে ইবাদত আরও পরিপূর্ণ ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন