
প্রকৃতি সাধারণত শান্ত ও স্নিগ্ধ হলেও কখনও কখনও তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মানুষের জীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও বড় অগ্নিকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেবল ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক সতর্কবার্তা বা পরীক্ষা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মুমিনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো—আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “দান-সদকা আল্লাহর রাগ প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু প্রতিরোধ করে।” (তিরমিজি)
সদকা কেবল গরিবদের সহায়তা নয়; এটি দাতার জন্যও এক ধরনের সুরক্ষা। যেকোনো বিপদ-আপদ, যেমন অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন, সদকা বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত দূর করে।
দান করতে হলে যে অনেক টাকার মালিক হতে হবে, তা নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য অর্থ, খাবার কিংবা হাসি মুখে মানুষের উপকার করাও সদকার অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যারা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে বড় সদকা।
দুর্যোগের মুহূর্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বা ইস্তিগফার করা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন। (সুরা আনফাল: ৩৩)।
যখন জমিনে পাপাচার বেড়ে যায়, তখন আসমানি বা জমিনি গজব নাজিল হতে পারে। তাই ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা দেখলে ভীত হয়ে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হয়। বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা এবং দোয়া ইউনুস (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জঅলিমিন) পড়া বিপদমুক্তির অন্যতম উপায়।
ইসলাম কেবল দোয়া করতে বলে না বরং সব সময় সতর্ক থাকারও নির্দেশ রয়েছে। উটের রশি না বেঁধে আল্লাহর ওপর ভরসা করার ঘটনাটি আমরা সবাই জানি, যেখানে রাসুল (সা.) আগে রশি বাঁধার (সতর্কতা অবলম্বন) নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আগুন লাগলে তা নেভানোর চেষ্টা করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ রাখা, ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া-এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। নিজের ও পরিবারের জান-মাল রক্ষার চেষ্টা করাও ইবাদতের অংশ।
মন্তব্য করুন