
শিরিকের ভয়াবহ পরিণতি: বনি ইসরাইল ও গোবৎস পূজার ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা শিরিক কী, বনি ইসরাইলের গোবৎস পূজার ঘটনা ও শিক্ষা | ইসলামী ইতিহাস
আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করা এবং তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় গুনাহ—যাকে বলা হয় শিরিক। বনি ইসরায়েলের মুমিনরা আল্লাহর কথা ভুলে গিয়ে গোবৎসের উপাসনা শুরু করে। একজন মুমিনের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কোরআনের বর্ণনা
মহান আল্লাহ বলেন—
وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَىٰ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ
অর্থ : আর স্মরণ করুন, যখন আমি মুসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম, তার (চলে যাওয়ার) পর তোমরা গো-বৎসকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে; আর তোমরা ছিলে অত্যাচারী। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৫১)
এ ঘটনা ওই সময়ের যখন ফেরাউন সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার পর বনি ইসরাইলের লোকেরা মিসর ফিরে এসেছিল। কারো কারো মতে, তারা তখন অন্য কোথাও বসবাস করছিল। তখন তারা মুসা (আ.)-এর কাছে আরজ করল যে, আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। যদি আমাদের জন্য কোনো শরিয়ত নির্ধারিত হয়, তবে আমাদের জীবন বিধান হিসেবে আমরা তা গ্রহণ করব।
তখন মুসা (আ.)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিলেন, আপনি তুর পর্বতে অবস্থান করে এক মাস পর্যন্ত আমার ইবাদতে নিমগ্ন থাকুন। এরপর আপনাকে একটি কিতাব দান করব। মুসা (আ.) তাই করলেন।
এরপর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে অতিরিক্ত আরো দশদিন ইবাদত করার নির্দেশ দিলেন। এভাবে চল্লিশ দিন পূর্ণ হলো আর আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ.)-কে তাওরাত দিলেন। মুসা (আ.) তো ওদিকে তুর-পর্বতে রইলেন, এদিকে সামরি নামক এক ব্যক্তি সোনা-রূপা দিয়ে গোবৎসের একটি প্রতিমূর্তি তৈরি করল এবং তার কাছে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত জিবরাঈল (আ.)-এর ঘোড়ার খুরের তলার কিছু মাটি প্রতিমূর্তির ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ায় সেটি শব্দ করতে থাকল। আর বনি ইসরাঈলের লোকেরা গোবৎসের পূজা করতে শুরু করে দিল। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন)
শিক্ষা ও বিধান বনি ইসরাঈলের লোকেরা আল্লাহ তাআলার সাথে অঙ্গীকার করার পরও, নবী মুসা (আ.)-এর সাময়িক অনুপস্থিতিতে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে এবং একটি জড়বস্তুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই ঘটনা মানুষের দুর্বলতা, প্রলোভন ও ঈমানের পরীক্ষার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
এই ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দেয়—সত্যকে জানার পরও যদি আমরা নফস ও প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করি, তবে আমরাও পথভ্রষ্ট হতে পারি। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিটি অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা, তাওহিদের ওপর অটল-অবিচল থাকা এবং যেকোনো বিভ্রান্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
মন্তব্য করুন