
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল—যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত নেক আমলে পরিপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এ মাসকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো। নিচে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ তুলে ধরা হলো—
রোজা ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন— সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
রমজানে রোজা রাখা ফরজ এবং এটি তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম (বাকারা: ১৮৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— সাহরি হলো বরকতময় খাবার। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। (মুসনাদে আহমাদ: ১১১০১)
সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য আল্লাহ ও ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন।
ইফতার বিলম্ব না করে যথাসময়ে করা সুন্নাহ। রাসুল (সা.) বলেছেন— রোজাদার যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে। (আবু দাউদ: ২৩৫৭)
রমজানে তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে এসেছে— যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান আদায় করবে, তার অতীত গুনাহ মাফ করা হবে। (বুখারি: ২০০৯)
ইমামের সঙ্গে তারাবি শেষ করা সারা রাত ইবাদতের সমান সওয়াবের কারণ (তিরমিজি: ৮০৬)।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন— রমজানে নবী (সা.) সবচেয়ে বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন। (মুসলিম: ৩২০৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন (মুসলিম: ১১৭১)। এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সুযোগ।
যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৩০২) এতে রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হয় না।
রমজান ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। নবী (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও ক্ষমা করাতে পারল না, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। (জামেউল উসুল: ১৪১০)
জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে নবী (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন (বুখারি: ১৯০২)। তাই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও শোনানো উত্তম আমল।
কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা: কদর, আয়াত: ৪)
এই রাতে ইবাদত অতীত গুনাহ মাফের কারণ (বুখারি: ৩৫)।
রমজানের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন (বাকারা: ১৮৩)। এটি মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহভীতির মাধ্যমে জীবন পরিচালনায় সহায়তা করে।
রাসুল (সা.) বলেছেন— রোজা অবস্থায় কেউ গালি দিলে বলবে—আমি রোজাদার। (বুখারি: ১৯০৪)
রমজানে ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পরিহার করা জরুরি।
তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না—রোজাদার, ন্যায়নিষ্ঠ নেতা ও মজলুম। (সহিহ ইবনু হিব্বান: ৩৪২৮)
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। রোজা, নামাজ, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে এ মাসকে সফল করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত সঠিকভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন