মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রমজানে করণীয় আমলসমূহ

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম
রমজানে করণীয় আমলসমূহ

রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল—যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত নেক আমলে পরিপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এ মাসকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো। নিচে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ তুলে ধরা হলো—

রোজা ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন— সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

রমজানে রোজা রাখা ফরজ এবং এটি তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম (বাকারা: ১৮৩)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— সাহরি হলো বরকতময় খাবার। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। (মুসনাদে আহমাদ: ১১১০১)

সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য আল্লাহ ও ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন।

ইফতার বিলম্ব না করে যথাসময়ে করা সুন্নাহ। রাসুল (সা.) বলেছেন— রোজাদার যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে। (আবু দাউদ: ২৩৫৭)

রমজানে তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে এসেছে— যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান আদায় করবে, তার অতীত গুনাহ মাফ করা হবে। (বুখারি: ২০০৯)

ইমামের সঙ্গে তারাবি শেষ করা সারা রাত ইবাদতের সমান সওয়াবের কারণ (তিরমিজি: ৮০৬)।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন— রমজানে নবী (সা.) সবচেয়ে বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন। (মুসলিম: ৩২০৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন (মুসলিম: ১১৭১)। এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সুযোগ।

যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৩০২) এতে রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হয় না।

রমজান ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। নবী (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও ক্ষমা করাতে পারল না, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। (জামেউল উসুল: ১৪১০)

জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে নবী (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন (বুখারি: ১৯০২)। তাই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও শোনানো উত্তম আমল।

কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা: কদর, আয়াত: ৪)

এই রাতে ইবাদত অতীত গুনাহ মাফের কারণ (বুখারি: ৩৫)।

রমজানের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন (বাকারা: ১৮৩)। এটি মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহভীতির মাধ্যমে জীবন পরিচালনায় সহায়তা করে।

রাসুল (সা.) বলেছেন— রোজা অবস্থায় কেউ গালি দিলে বলবে—আমি রোজাদার। (বুখারি: ১৯০৪)

রমজানে ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পরিহার করা জরুরি।

তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না—রোজাদার, ন্যায়নিষ্ঠ নেতা ও মজলুম। (সহিহ ইবনু হিব্বান: ৩৪২৮)

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। রোজা, নামাজ, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে এ মাসকে সফল করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত সঠিকভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X