
রমজান মাস শুরু হলেই মুসলিম বিশ্বের ঘরে ঘরে এক বিশেষ প্রস্তুতি দেখা যায়। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর সূর্যাস্তে খেজুর দিয়ে ইফতার করা শুধু একটি ঐতিহ্যই নয়, এটি ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত একটি আমলও। হাদিসে খেজুর দিয়ে ইফতার করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উপবাসের পর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে প্রাকৃতিক চিনি ও পুষ্টিতে ভরপুর খাবার প্রয়োজন। আর সেখানেই খেজুর একটি আদর্শ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
খেজুরকে বলা হয় প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ, যা শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। অঞ্চলভেদে খেজুরের রং ও স্বাদে পার্থক্য থাকলেও সব ধরনের খেজুরেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ।
১. সারাদিন না খাওয়ার পর সন্ধ্যায় ইফতারে ভালমন্দ খাওয়ার চল রয়েছে সারা বিশ্বে। অনেকেই খাদ্যতালিকায় রাখেন নানা ধরনের ফল এবং ভাজাভুজি । খেজুর সে সব খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এটি খালি পেটে খেলেও কোনও ক্ষতি নেই।
২. সারাদিন উপবাসের পর শরীরে ফাইবারের প্রয়োজন পড়ে। খেজুর শরীরের এই পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে।
৩. রোজায় সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়। কিন্তু সারাদিনের কাজকর্ম থেমে থাকে না। এজন্য শরীর সচল রাখা প্রয়োজন। খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন শরীর সচল রাখতে বেশ কার্যকর।
৪. শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য হৃৎপিণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব ধরনের কিংবা রঙের খেজুরে অল্প পরিমাণে সোডিয়াম এবং বেশি পরিমানে পটাশিয়াম থাকে। এটা হৃৎপিণ্ড ভাল রাখতে সাহায্য করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়।
৫.খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘বি’ নার্ভকে শান্ত করে রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা খেজুর খেতে পারেন। এই ফল রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. ত্বকের সুরক্ষায়ও খেজুর দারুণ কাজ করে। নিয়মিত খেজুর খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে ত্বকও থাকে ঝলমলে। খেজুর চুলের জন্যও বেশ উপকারী। এত পুষ্টিগুণ থাকায় শরীর ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞরা তাই দিনে অন্তত দুইটি করে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন