
রমজান মাস কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের সীমাবদ্ধতা শেখায় না; এটি হৃদয়ের উদারতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সময়। সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা রোজাদারের জন্য, সূর্যাস্তের সময় একটুকরো খাবার তুলে দেওয়া শুধু দান নয়, বরং তার ইবাদতের আনন্দে অংশ নেওয়ার মহৎ সুযোগ।
ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাকেও আল্লাহ মহান সওয়াবের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সামান্য খেজুর বা এক গ্লাস পানির মাধ্যমেও একজন মুমিন এমন সওয়াব লাভ করতে পারে যা তার কল্পনার বাইরে।
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا ".
যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রোযা পালনকারীকে ইফতার করায়, তার জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। তবে রোযা পালনকারীর সওয়াব থেকে কিছু কমে যায় না। (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭)
এই হাদিসে ইসলামের দানশীলতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়েছে। এটি মুমিনদের অন্যের জন্য কাজ করার আগ্রহ বৃদ্ধি করে।
একজন রোজাদার সারাদিন ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নফসের তাড়না দমন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ইবাদত সম্পন্ন করে, তাকে ইফতার করানোর মাধ্যমে সেই মহান ইবাদতের সওয়াবে শরিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এই হাদিসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, ইফতার করানো ব্যক্তিও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। এটি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ও দয়ার পরিচয় বহন করে। মানুষের দান সীমিত হলেও আল্লাহর প্রতিদান সীমাহীন। তাই সামান্য কিছু দিয়েও একজন মুমিন অগণিত সওয়াব অর্জন করতে পারে।
এ হাদিস থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় যে, ইফতার করানো বড় আয়োজন বা আড়ম্বরের ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও এই ফজিলত অর্জন করা সম্ভব। অন্য হাদিসে এসেছে, নবী (সা.) বলেছেন, “যদিও এক টুকরো খেজুর বা এক ঢোক পানি দিয়ে হয়, তবুও রোজাদারকে ইফতার করাও।” (ইবনে খুযাইমা)
এর মাধ্যমে ইসলামের সামাজিক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একে অপরের ইবাদতে সহযোগিতা করবে, একে অপরের কষ্ট লাঘব করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রতিযোগিতা করবে। বিশেষ করে অভাবী ও অসহায় রোজাদারদের ইফতার করানো আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আমল।
অতএব, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, রমজান শুধু নিজের আমলের মাস নয়; বরং অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করে অফুরন্ত সওয়াব অর্জনেরও সুবর্ণ সুযোগ। আন্তরিকতা ও ইখলাসের সাথে রোজাদারকে ইফতার করানো একজন মুমিনের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বড় সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে।
মন্তব্য করুন