সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

যে মসজিদের নাম স্বয়ং আল্লাহ তাআলা রেখেছেন

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ফিলিস্তিনে অবস্থিত আল আকসার মসজিদ।

মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য তৃতীয় পবিত্র স্থান হলো ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নগরীতে অবস্থিত মসজিদ আল আকসা। পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণের প্রায় ৪০ বছর পর মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর হযরত ইয়াকুব (আ.) এই মসজিদ নির্মাণ করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়।

পরবর্তীতে হযরত দাউদ (আ.)-এর নির্দেশে তাঁর পুত্র হযরত সুলাইমান (আ.) মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন। কুরআন নাজিলের আগ পর্যন্ত এই পবিত্র স্থানটি ‘বাইতুল মাকদাস’ নামে পরিচিত ছিল। পরে আল্লাহ তাআলা এর নামকরণ করেন ‘মসজিদ আল আকসা’, যার অর্থ— দূরের মসজিদ।

পবিত্রতার দিক থেকে মক্কা ও মদিনার পরই মসজিদ আল আকসার অবস্থান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের শুরুর দিকে মুসলমানরা কাবা শরিফের পরিবর্তে এই মসজিদের দিকেই মুখ করে নামাজ আদায় করতেন।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, মেরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মসজিদ আল আকসায় গমন করেন এবং এখানে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। প্রায় ২৭ একর ভূমির ওপর অবস্থিত এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

ইতিহাসে মসজিদ আল আকসাকে ঘিরে বহুবার সংঘাত হয়েছে। ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে এটি মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে ক্রুসেডের সময় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে দখল নিয়ে ব্যাপক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি পায় এবং একাধিকবার মসজিদ আল আকসায় হামলা চালানো হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭৪৬ ও ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদটি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ফাতিমি খলিফা আলী আজ-জাহির এটি পুনর্নির্মাণ করেন। বর্তমানে যে স্থাপনাটি দেখা যায়, সেটি মূলত তাঁর সংস্কার করা কাঠামো।

বর্তমানে পবিত্র এই মসজিদটি দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের বিশ্বাস—একদিন এই পবিত্র ভূমি দখলমুক্ত হবে।

হাদিস শরিফে মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে কুবায় এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, সে একটি ওমরাহ পালনের সমপরিমাণ সওয়াব পায়। (তিরমিজি: ২২৪, ইবনে মাজাহ: ১৪১১)

আরেক হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) প্রতি শনিবার কখনও হেঁটে, কখনও বাহনে চড়ে কুবা মসজিদে যেতেন এবং সেখানে নামাজ আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি, খণ্ড : ০২, হাদিস : ১১১৯)

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে মাইকেল মধুসূদনের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, সংবাদ সম্মেলনে মারধরের অভিযোগ

যশোরে পৃথক অভিযানে মাদক ও চাকুসহ তিনজন আটক

যশোরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

হেরোইনের মামলায় বেনাপোলের জামাল হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু

পলাশবাড়ীতে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

শৈলকূপায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

যশোর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের সন্দেহে একজন আটক

চৌগাছায় ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষক আহত

X