
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : বনি ইসরাঈল (আল-ইসরা) আয়াত : ২১
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আরবি আয়াত
اُنۡظُرۡ كَیۡفَ فَضَّلۡنَا بَعۡضَهُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ وَ لَلۡاٰخِرَۃُ اَكۡبَرُ دَرَجٰتٍ وَّ اَكۡبَرُ تَفۡضِیۡلًا ﴿۲۱﴾
সরল বাংলা অনুবাদ ২১. লক্ষ করো, আমরা কিভাবে একদল মানুষকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর আখিরাত তো অবশ্যই মর্যাদায় আরও মহত্তর এবং শ্রেষ্ঠত্বে আরও বৃহত্তর।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের দুনিয়াবি জীবনের বৈচিত্র্য ও পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। দুনিয়াতে মানুষ একে অপরের থেকে ভিন্ন—কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র, কেউ মধ্যবিত্ত। কেউ সুন্দর, কেউ কম সুন্দর, কেউ শক্তিশালী, কেউ দুর্বল। আবার কেউ সুস্থ, কেউ অসুস্থ; কেউ জ্ঞানী, কেউ কম বুদ্ধিমান।
এই পার্থক্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। মানুষের সীমিত জ্ঞানের পক্ষে এর গভীর রহস্য পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। (ফাতহুল কাদীর)
তবে আয়াতটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—দুনিয়ার এই পার্থক্যই চূড়ান্ত নয়। প্রকৃত ও চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারিত হবে আখিরাতে। সেখানে ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে মানুষের স্তর নির্ধারিত হবে, যা দুনিয়ার পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
আখিরাতে কেউ থাকবে জাহান্নামের নিম্ন স্তরে, শিকল ও লোহার বেড়িতে আবদ্ধ অবস্থায়। আবার কেউ থাকবে জান্নাতের উচ্চতম স্তরে, নেয়ামত, শান্তি ও আনন্দে ভরপুর পরিবেশে।
এমনকি জান্নাতিদের মধ্যেও বিভিন্ন স্তর থাকবে। একেকজনের মর্যাদার ব্যবধান হবে আসমান ও যমীনের দূরত্বের মতো। উচ্চ স্তরের জান্নাতিরা নিম্ন স্তরের জান্নাতিদের দেখবে ঠিক যেমন দূরের আকাশে ঝলমলে নক্ষত্র দেখা যায়। (ইবন কাসীর)
মন্তব্য করুন