মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হারাম উপার্জনের ভয়াবহ পরিণতি

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এএম
হারাম উপার্জনের ভয়াবহ পরিণতি

মানুষ সাধারণত পাপ ও পচনের চিত্র হাত, জিহ্বা বা চোখের মাধ্যমে কল্পনা করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টি এ বিষয়ে অনেক গভীর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের দেহের প্রথম দুর্গন্ধময় অংশ হলো পেট, হাত নয়, চোখ নয়। এই হাদিসে লুকিয়ে আছে ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দর্শন, যা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের দেহের যে অংশ প্রথম দুর্গন্ধময় হবে, তা হলো তার পেট। কাজেই যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে যে একমাত্র পবিত্র (হালাল) খাদ্য ব্যতীত আর কিছু সে আহার করবে না, সে যেন তাই করতে চেষ্টা করে। (বুখারি, হাদিস : ৭১৫২)

এই নির্দেশনা শুধুমাত্র খাদ্য সম্পর্কিত নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার মূলনীতি। পেট হলো মানুষের প্রবৃত্তি, লালসা ও কামনার প্রবেশদ্বার। যখন কেউ হালাল ও হারামের সীমা অমান্য করে, তখন তার ইবাদত, দোয়া ও চরিত্র ধীরে ধীরে দূষিত হতে শুরু করে।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে, তা থেকে আহার করো। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৮)

‘হালাল’ শব্দের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে ‘তাইয়্যিব’—যার অর্থ পবিত্র, কল্যাণকর ও নৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন আহার। অর্থাৎ খাদ্য শুধু বৈধ হলেই যথেষ্ট নয়; তা হতে হবে নৈতিক ও অন্যায়মুক্ত উপার্জনের ফল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন একজন ব্যক্তির কথা, যে দীর্ঘ সফরে ধূলিমাখা হয়ে দুহাত তুলে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে?

আল্লাহ তাআলা পবিত্র; তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। তিনি তাঁর প্রেরিত রাসুলদেরও এ নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০১৫)

হারাম উপার্জনে পেট কেবল দুর্গন্ধময়ই হবে না, বরং এটি বান্দা ও আল্লাহর মাঝে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে। দোয়া কবুল হয় না, ইবাদতে স্বাদ আসে না, হৃদয় কঠিন হয়ে যায়।

বর্তমান সমাজে দুর্নীতি, ভেজাল, মুনাফাখোরি ও সুদের বিস্তার প্রায়ই পেটকেন্দ্রিক লোভের শিকড় থেকে উৎপন্ন। মানুষ আর প্রশ্ন করে না—এই খাবার কোথা থেকে এসেছে, কার হক ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কিন্তু মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, পেট হলো নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাকওয়া শুধুমাত্র জায়নামাজে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাজারে, অফিসে, ব্যবসা ও উপার্জনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। হালাল খাদ্য গ্রহণ শুধু শরীরকে নয়, ঈমান, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও নিরাপদ রাখে।

ইসলামের দৃষ্টিতে পেট কোনো সাধারণ অঙ্গ নয়; এটি মানুষের নৈতিক মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দু। যে ব্যক্তি তার পেটকে হালালের মধ্যে রাখে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর যে ব্যক্তি এখানে শিথিলতা প্রদর্শন করে, তার জন্য দুর্গন্ধ শুধু দেহে নয়, আমল, সমাজ ও পরিণতিতেও ছড়িয়ে পড়ে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X