
মানুষের জীবনে আনন্দ-সুখ ও দুঃখ-কষ্ট—উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ইসলামে যেমন সুখের সময় আল্লাহর প্রশংসা করা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দুঃখ ও পরীক্ষার মুহূর্তেও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমর্পণ অপরিহার্য। এই শিক্ষাই বাস্তবে অনুসরণ করে গেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো আনন্দদায়ক বা পছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন তিনি একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন—
(الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ)
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহ আল্লাযি বিনিমাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত। অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতের মাধ্যমেই ভালো কাজসমূহ পূর্ণতা লাভ করে।
অন্যদিকে, যখন তিনি কোনো অপছন্দনীয় বা কষ্টদায়ক বিষয় দেখতেন, তখনও আল্লাহর প্রশংসা থেকে বিরত থাকতেন না। সে সময় তিনি বলতেন—
(الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ)
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল। অর্থ: সব অবস্থায়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে—রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো পছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন প্রথম দোয়াটি পাঠ করতেন এবং অপছন্দনীয় কিছু দেখলে দ্বিতীয় দোয়াটি পড়তেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮০৩)
এই হাদিসগুলো মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে—জীবনের সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখাই হলো প্রকৃত ঈমানের পরিচয়।
মন্তব্য করুন