
প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলিমের কিছু অধিকার রয়েছে। ইসলামী শরিয়তে এই অধিকারগুলো পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন যে একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হক রয়েছে— ১. সালামের জবাব দেওয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া, ৩. জানাজার পশ্চাদানুসরণ করা, ৪. দাওয়াত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতাকে খুশি করা (আলহামদু লিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)। (বুখারি, হাদিস : ১২৪০)
এই কাজগুলো আল্লাহর কাছে খুব প্রিয় এবং এগুলো করার মাধ্যমে একজন বান্দা বিশাল সওয়াব অর্জন করতে পারে।
মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করে কিন্তু লাশের অনুসরণ করে না, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি লাশের অনুসরণ করে, তার জন্য রয়েছে দুই কিরাত। জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এর ছোটটিও উহুদ পাহাড় সমতুল্য। সূত্র: মুসলিম, হাদিস : ২০৮১
এই জন্যই মুসলমানদের উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়, অন্য মুসলিমের মৃত্যু হলে জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া।
যেহেতু সবাই নিয়মিত জানাজার নামাজ পড়ে না, তাই নামাজের আগে নামাজের নিয়মাবলী জানাটা জরুরি। নিম্নে ধাপে ধাপে জানাজার নামাজের নিয়ম তুলে ধরা হলো—
নিয়ত করা : নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়া জরুরি নয়, মনে মনে করলেই ফরজ আদায় হয়ে যায়। জানাজার নামাজের ক্ষেত্রে এভাবে নিয়ত করা যেতে পারে যে জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায় করছি।
নামাজ আল্লাহর জন্য, দোয়া মাইয়্যেতের (মৃত ব্যক্তির) জন্য।
তাকবিরে তাহরিমা বলা : এরপর তাকবিরে তাহরিমা বলবে এবং কান পর্যন্ত হাত ওঠাবে।
ছানা পড়া : এরপর ছানা পড়বে। জানাজায় পঠিতব্য ছানা হলো—
سُبْحَا نَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ : সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক।
দরুদ শরিফ পড়া : এরপর তাকবির বলে দরুদ পাঠ করবে।
নামাজের শেষ বৈঠকে আমরা যে দরুদে ইবরাহিম পড়ি, সেটাই এখানে পড়বে। এই তাকবিরে হাত ওঠাবে না। দোয়া পড়া : এরপর তৃতীয় তাকবির বলে মৃত ব্যক্তি ও মুসলমানদের জন্য দোয়া করবে। তখনো হাত ওঠাবে না। মৃত ব্যক্তি যদি সাবালক পুরুষ বা নারী হয় তাহলে এই দোয়া পড়া—
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া ছগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃতদের, উপস্থিত ও গায়েবদের, ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৪৫)
মৃত যদি ছেলেশিশু হয় তবে এই দোয়া পড়া,
اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহু লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহু লানা শা-ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।
আর মেয়েশিশু হলে এই দোয়া পড়া,
اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرْطًا وَاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًاوَاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَمُشَفَّعَة
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।
সালাম ফেরানো : তারপর চতুর্থ তাকবির বলে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করা। প্রথম তাকবির ছাড়া অন্য তাকবিরে হাত ওঠাবে না। (দারাকুতনী ১৮৫৩, ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৯৫, সুনানে কুবরা, হাদিস : ৭২৩৮, ৭৪৩৩, দারা কুতনি, হাদিস : ১৮৫৩)
মন্তব্য করুন