
কঠিন সময়ে যখন মনে হয় জীবন অন্ধকারে ডুবে গেছে, তখন কেউ যদি বলে, "আল্লাহর উপর ভরসা করো," শুনতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন মনে হতে পারে। ইসলামিক শিক্ষায় আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসাকে তাওয়াক্কুল বলা হয়। অনেকেই প্রশ্ন করেন, তাওয়াক্কুল কি সত্যিই কার্যকর? নাকি শুধু মানসিক প্রশান্তির জন্য বলা হয়?
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন, যে আল্লাহর উপর নির্ভর করে, আল্লাহ তার জন্যই যথেষ্ট। (সুরা আত-তালাক, আয়াত: ৩)
তাওয়াক্কুলের অর্থ ও বাস্তবায়ন ইবনে আতা বলেছেন, পরিকল্পনা করার পর দুশ্চিন্তা ছেড়ে দাও। যেসব কাজ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে আছে, তা নিয়ে অযথা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
তাওয়াক্কুলের মূল ধাপগুলো: প্রচেষ্টা করা: প্রয়োজনীয় কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা – যেমন চিকিৎসার জন্য সেরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনপত্র নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা।
ফলাফলের চিন্তা ছেড়ে দেওয়া: ফলাফল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর হাতে।
মন শান্ত রাখা: বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ আল-ওয়াকিল, সকলের রক্ষা ও দেখভালকারী।
আল্লাহ কখনো বান্দাদের ছেড়ে দেন না এবং যিনি তার উপর ভরসা রাখেন, তিনি কখনো হতাশ হন না।
আল্লাহর ক্ষমতা ও আমাদের ভরসা কোরআনে আল্লাহর উপর ভরসা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তার অসীম ক্ষমতার কথাও স্মরণ করানো হয়েছে।
সুরা মুযযাম্মিল, আয়াত ৯: তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, একমাত্র সত্য ইলাহ।
সুরা ফুরকান, আয়াত ৫৮: সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা করো, যিনি কখনো মারা যান না।
অর্থাৎ, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, সর্বত্র উপস্থিত এবং সমস্ত জগতের অধিপতি। আমাদের প্রত্যেক প্রয়োজন তার অধীনে, তাই তার উপর ভরসা আমাদের মুক্তি ও শান্তি দান করবে।
উপায়হীন মুহূর্তে কী করবেন? ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন, তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল সেই দিন, যখন ঘরে কোনো খাবার ছিল না। কারণ সে দিনে সে পুরোপুরি আল্লাহর উপর নির্ভর করেছিল। কোনো উপায় না থাকলেও আল্লাহর উপর ভরসা তার একমাত্র পাথেয় হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তাওয়াক্কুল মানে শুধু ভরসা নয়, এটি মানসিক শক্তি ও ধৈর্যের উৎস।
মন্তব্য করুন