
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। সেদিন হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি হয়েছিল, জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন এবং জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন। — (মুসলিম ৮৫৪, নাসায়ি ১৩৭৩, তিরমিজি ৩৮৮)
ইসলামী দৃষ্টিতে জুমা শুধু সাপ্তাহিক ইবাদত নয়, বরং নবী-রাসুলদের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিশেষ দিন।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় রসুলুল্লাহ (সা.) কয়েকদিন কুবায়—আমর ইবনে আউফ গোত্রের এলাকায় অবস্থান করেন। মসজিদে কুবার ভিত্তি স্থাপন করেন বৃহস্পতিবারে; এটিই ইসলামের প্রথম মসজিদ, যা তাকওয়া ও খোদাভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
পরদিন শুক্রবার সকালে তিনি মদিনার উদ্দেশে রওনা হন। সালিম ইবনে আউফ গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছালে জুমার সময় হয়ে যায়। সেখানে তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন, যা ইতিহাসে ইসলামের প্রথম জুমা হিসেবে উল্লেখিত। — (আল বিনায়াহ ৩/৫৩)
ইসলামে জুমার দিনের জন্য বিশেষ কিছু আমল নির্দেশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতি, গোসল করা (সুন্নত), হাতের নখ কাটা, পরিষ্কার ও পবিত্র পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দাঁত মেসওয়াক করা, মসজিদে যাওয়ার আদব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদে যাওয়া, মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
হাদিসে উল্লেখ আছে— যিনি জুমার দিন গোসল করে সবচেয়ে আগে মসজিদে যান, তিনি যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পান। দ্বিতীয় ব্যক্তি গরু, তৃতীয় শিংওয়ালা ছাগল, চতুর্থ মুরগি এবং পঞ্চম ব্যক্তি ডিম দানের সওয়াবের সমপরিমাণ প্রতিদান পান।
জুমার দিন ফজরের নামাজে রসুলুল্লাহ (সা.) সুরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা এবং সুরা দাহর পড়তেন। — (বুখারি ৮৯১)
এটি সুন্নত হিসেবে ধারাবাহিকভাবে প্রচলিত।
হাদিসে এসেছে— যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এমন নূর আলোকিত করা হবে, যা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। — (সুনানে কুবরা ৩/৩৫৩)
অন্য বর্ণনায় এসেছে— এই নূর তেলাওয়াতকারী থেকে বাইতুল্লাহ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। — (বাইহাকি ৩/১১৩)
এসব বর্ণনা সুরা কাহাফের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরে।
হাদিস শরিফে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত— জুমার দিনে এমন এক মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা যা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তা কবুল করবেন। — (আবু দাউদ ১/১৫০)
মুসলিম শরিফে এসেছে, এই সময়টি ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। — (মুসলিম ১৯৭৫)
আসরের শেষ সময়েও এ মুহূর্তটি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফজিলত অনুধাবন ও যথাযথ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন