রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আটকের ২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হলো রাহুল–প্রিয়াঙ্কাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আটকের ২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হলো রাহুল–প্রিয়াঙ্কাকে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের নেতারা। পরে পুলিশ তাদের জোর করে সরিয়ে নিয়ে যায়।

সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির কনট প্লেস, জনপথ ও যন্তর মন্তর এলাকায় হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর জমায়েত দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন ও সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হলেও নানা বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এর প্রতিবাদে এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবিতে মঙ্গলবার বিরোধী নেতারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে কোনো আশ্বাস না পাওয়ার পর বিকেলে তারা আচমকাই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর পুলিশ কংগ্রেস নেতাদের জোর করে সরিয়ে দেয়। এ সময় রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জোর করে সরানোর সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। পরে আটক নেতাদের দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাহুল গান্ধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুলিশি হামলার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা প্রয়োজন।

অন্য একটি পোস্টে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলার শামিল। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর কোনোভাবেই দমন করা যাবে না এবং দেশবাসীকে তাদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গতকাল সংসদ ভবন থেকে যান রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে পুলিশের হামলায় আহত ছাত্রছাত্রীদের দেখতে। সেখান থেকে ফিরে তারা খাড়গের বাড়ি যান। সেখানেই ঠিক হয়, তারা সদলে ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসবেন। সেই অনুযায়ী বেলা সাড়ে তিনটায় তারা অবস্থান শুরু করেন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হকচকিত করে। কিছু সময়ের মধ্যে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। রাহুলের সঙ্গে জিতেন্দ্র সিংকে কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায়। এরপর তারা চলে যান।

ইতিমধ্যে ধরনায় ভিড় বাড়তে থাকে। কেরলম ও কর্ণাটকের দুই কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে ভি ডি সতীশন এবং ডি কে শিবকুমার, কে সি বেনুগোপাল, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ অনেকেই ধরনাস্থলে চলে আসেন। কংগ্রেসের নেতা–কর্মীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জিতেন্দ্র সিং গণমাধ্যমকে জানান, রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সরকার তা মেনে নিয়েছে। তাকে বলা হয়, সরকার আজ বুধবারেই আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু তারপর রাহুল মন বদলান। তিনি বলেন, শুধু আলোচনা নয়, শিক্ষামন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে।

সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানতে রাজি হয়নি। এরপরই ঠিক হয়, জোর করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। দিল্লি পুলিশ সেটাই করে। সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ সব নেতাকে জবরদস্তি করে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। রাহুলকে মাটিতে শুয়ে পড়তে দেখা যায়।

১০–১২ জন পুলিশ তাকে জবরদস্তি করে উঠিয়ে বাসে তোলেন। ধস্তাধস্তির সময় রাহুলের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। পরে রাহুল গান্ধীসহ আটক নেতাদের একটি দলকে বাসে করে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে রাহুল গান্ধী চলে যান।

আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নেতাকে নেওয়া হয় দিল্লির মন্দির মার্গ থানায়। ঘটনার পর কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ওই থানায় ছুটে যান। রাত ৯টা নাগাদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মুক্তি পান।

ককরোচের আন্দোলন চলছে ভারতে মেডিক্যাল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি–কাম–এনট্রান্স টেস্ট–নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে নানা ধরনের দুর্নীতির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দুই মাস ধরে আন্দোলন করছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে প্রথমে দিল্লি, তারপর দেশের নানা শহরে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। প্রায় এক মাস আগে তারা দিল্লিতে নতুন করে ধরনা কর্মসূচি নেয়।

২৪ দিন আগে সে অবস্থান আন্দোলন শুরু করলে লাদাখের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনম ওয়াংচুক ছাত্রদের সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন।

২০ জুলাই শুরু হয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। সিজেপি নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, শুরুর দিনেই তারা সংসদ ভবনে অভিযান করবেন। তার ঠিক দুই দিন আগে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের অবস্থান মঞ্চ থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় সোনম ওয়াংচুককে। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দলে নিতে চায় আর্সেনাল

এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে

দেশের ১১ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন

যশোরে জিতু হত্যার ঘটনায় চারজনের নামে মামলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি

ফিরেছে সোনালি আঁশের সুদিন, ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ফেসবুকে বিনামূল্যে মিলবে ভেরিফায়েড ব্যাজ

অপু-বুবলী নন, তবে কাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন শাকিব খান?

২৬ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

লাল শাড়িতে তটিনীর মিষ্টি লুক

যুক্তরাষ্ট্রের ৯ অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি

কোথায় থেকে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা, খুঁজে পাচ্ছে না সৌদি আরব

যশোরে উদীচীর ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা ১৪৩৩’ উদযাপন

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন যশোরের অনন্যা

যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেযোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ফারুক হাসান

যশোরে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের উদ্বোধন করলেন অভিনেত্রী মিম

X