রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতে মোদি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ, ‘তেলাপোকারা’ চলে এসেছে সংসদ পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ভারতে মোদি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ, ‘তেলাপোকারা’ চলে এসেছে সংসদ পর্যন্ত

ভারতের রাজনীতিতে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সংগঠনটি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দিপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি এক শুনানিতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ হিসেবে উল্লেখ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকেই এই উদ্যোগের সূত্রপাত।

পরে অভিজিৎ একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির কার্যক্রম শুরু করেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মটির স্লোগান—‘যাদের এই ব্যবস্থা গুনতেই ভুলে গেছে, এটি তাদের রাজনৈতিক দল।’

মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে সংগঠনটি বিজেপিকেও ছাড়িয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস। সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন বিক্রির কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ভারতে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার মেডিকেল আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করেন। অনেক পরিবার সন্তানদের কোচিং করাতে আজীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে কিংবা ঋণের বোঝা নেয়। প্রশ্নফাঁসের কারণে বহু শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ঘটনায় হতাশ হয়ে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সিজেপি দেশজুড়ে জনসমর্থন গড়ে তোলে।

জুনের শুরুতে দিল্লিতে প্রথম বড় কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। এরপর মাসের শেষ দিকে তারা দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে এবং শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই কর্মসূচিতে যোগ দেন লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

অনশনের দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আদালত তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়। পরে অনশনের ২০তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ এটিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পদক্ষেপ বললেও তার পরিবার ঘটনাটিকে বেআইনি আটক হিসেবে বর্ণনা করে।

হাসপাতাল থেকেই ওয়াংচুক সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার আহ্বান জানান।

সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ডাকে হাজার হাজার মানুষ মধ্য দিল্লিতে জড়ো হন। আগের রাত থেকেই অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান করছিলেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিভাবকেরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।

দিল্লি পুলিশ সংসদমুখী পদযাত্রার অনুমতি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবাও সীমিত করে। এরপরও দুপুরের আগেই ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন।

পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সদস্য উভয় পক্ষেই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অভিজিৎ দিপ পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর’ বলে মন্তব্য করেন।

দীর্ঘদিন আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিলেও সোমবার সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করে সরকার। বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হলেও সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে জানিয়েছেন সিজেপির এক মুখপাত্র।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। গভীর রাতে পুলিশ বিক্ষোভস্থল খালি করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষ হচ্ছে না।’ ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দলে নিতে চায় আর্সেনাল

এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে

দেশের ১১ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন

যশোরে জিতু হত্যার ঘটনায় চারজনের নামে মামলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি

ফিরেছে সোনালি আঁশের সুদিন, ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ফেসবুকে বিনামূল্যে মিলবে ভেরিফায়েড ব্যাজ

অপু-বুবলী নন, তবে কাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন শাকিব খান?

২৬ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

লাল শাড়িতে তটিনীর মিষ্টি লুক

যুক্তরাষ্ট্রের ৯ অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি

কোথায় থেকে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা, খুঁজে পাচ্ছে না সৌদি আরব

যশোরে উদীচীর ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা ১৪৩৩’ উদযাপন

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন যশোরের অনন্যা

যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেযোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ফারুক হাসান

যশোরে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের উদ্বোধন করলেন অভিনেত্রী মিম

X