
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রক্সি ও মিত্র সংগঠনগুলোকে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবাননের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিদাআ আল-ওয়াতান-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার পাশে অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বৈঠকে মিত্র সংগঠনগুলোকে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে আসছে। সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া প্রাথমিক শান্তি চুক্তিটি ভেঙে যাওয়ার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। রাতভর চালানো মার্কিন বিমান হামলায় ইরানে আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার জবাবে ইরানের আইআরজিসি জর্ডান ও কাতারে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্য দিকে কুয়েত জানিয়েছে যে ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সেনা জখম হয়েছেন।
চলমান এই নতুন উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত তেল আবিব সরাসরি অংশ নেয়নি এবং তেহরানও সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে কোনো আঘাত করেনি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছেন যে আগামী দিনের যুদ্ধটি আগের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক ও বিস্তৃত হবে।
আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর সাম্প্রতিক নানা বিপর্যয়ের পর তেহরান এখনো হিজবুল্লাহকেই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সামরিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে এই আঞ্চলিক যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল এবং বৈরুত ও জেরুজালেমের মধ্যে বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে একটি বাফার জোন তৈরির চেষ্টা করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের সংঘাতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও অতীতে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে হিজবুল্লাহর পাশাপাশি হুথিরাও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মন্তব্য করুন
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম