
ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও বৃহৎ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়।
শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ বিশ্বের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় নগরী। কারণ, এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.)-এর মাজার অবস্থিত। ফলে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকী—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও একাধিক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরপর খামেনির মরদেহবাহী কফিন শহরজুড়ে জনশোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হবে। বুধবার সেখানে বড় পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন