
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে সংঘটিত এই হামলাকে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশের লিমাহ এলাকার কাছে ট্যাংকারটি লক্ষ্য করে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। জাহাজটি প্রণালী অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে ওমান উপসাগরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি এর বাম (পোর্ট) পাশে আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, দেশটির নৌবাহিনীর দেওয়া বিশেষ সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করায় ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তেহরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এর আগে ইরান একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করাই নিরাপদ। সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূলসংলগ্ন বিকল্প রুট ব্যবহারকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাতেও ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করা হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডোর হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে এর আগেও বারবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে কেবল তাদের অনুমোদিত নৌপথটিই নিরাপদ। ওমান উপকূলের কাছাকাছি বিকল্প রুট ব্যবহার করা অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকটি হামলা হয়েছে, তার সবকটির পেছনেই তেহরানের হাত রয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনা বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। গত আটাশ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই আলোচনা বন্ধ থাকবে।
ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ গত রাতে খামেনির মরদেহ বিমানযোগে শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মীয় শহর কোমে নিয়ে গেছে। আজ সেখানে সমবেত হাজার হাজার শোকাকুল মানুষ তাদের প্রয়াত এই শীর্ষ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন