মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরানের আকাশে রহস্যময় ‘জেলিফিশ ড্রোন’ দেখার দাবি মার্কিন পাইলটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ইরানের আকাশে রহস্যময় ‘জেলিফিশ ড্রোন’ দেখার দাবি মার্কিন পাইলটের

ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার দাবি, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগে তিনি আকাশে একাধিক ইরানি ড্রোনকে বিশাল ‘জেলিফিশ’-এর মতো আকৃতি ধারণ করে সমন্বিতভাবে চলাচল করতে দেখেছেন।

গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত চলাকালে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে পাইলট ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

নিজের পরিচয় গোপন রেখে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া ব্রিফিংয়ে ওই পাইলট জানান, তিনি আকাশে এমন এক ড্রোন গঠন দেখেছিলেন যা আগে কখনও দেখেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বড় আকারের ড্রোনগুলোর নিচে ছোট ছোট ড্রোন যুক্ত হয়ে একটি বিশাল জেলিফিশের আকৃতি তৈরি করেছিল। পুরো ড্রোন ঝাঁকটি একসঙ্গে চলাফেরা করছিল এবং দূর থেকে দেখতে অনেকটা ভিনগ্রহের কোনো উড়ন্ত যানের মতো মনে হচ্ছিল।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইলট এটিকে আকাশে স্থাপিত এক ধরনের ‘ড্রোন মাইনফিল্ড’ বা বিস্ফোরক ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ধারণা, এই বিশেষ ধরনের সমন্বিত ড্রোন কৌশলই হয়তো মার্কিন যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সহায়তা করেছে। যদিও বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন।

ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানা গেছে। বিমানটিতে পাইলটের পাশাপাশি একজন ওয়েপনস সিস্টেম অফিসারও ছিলেন।

পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় ক্রুকে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এড়াতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একদিনের বেশি সময় আত্মগোপন করে থাকতে হয়েছিল। পরে তাকেও উদ্ধার করা হয়।

তবে পাইলটের এই দাবি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি ঘটনাটি ভুলভাবে স্মরণ করে থাকতে পারেন।

বিশেষ করে এটি ছিল চলমান যুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো তার বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। যুদ্ধের শুরুতে কুয়েতি বাহিনীর ভুল আক্রমণেও তার আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—পাইলট সত্যিই কোনো অত্যাধুনিক ইরানি প্রযুক্তি দেখেছিলেন, নাকি এটি ছিল পরীক্ষামূলক কোনো ড্রোন ব্যবস্থা, অথবা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দৃষ্টিভ্রম?

এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে একাধিকবার নিশ্চিত হতে বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলট যে প্রযুক্তির কথা বর্ণনা করেছেন, তা ‘ওয়ান-টু-ম্যানি মেশড নেটওয়ার্কিং’ নামে পরিচিত হতে পারে।

এই ব্যবস্থায় একজন অপারেটর একই সময়ে বহু ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও চীনের কাছে ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে এবং ইরানও তাদের সহযোগিতায় নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

প্রযুক্তিটি বেসামরিক ক্ষেত্রে দূরবর্তী অঞ্চলে যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হলেও সামরিক ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড্রোন যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন বিশেষজ্ঞ এমা বেটসের মতে, যদি কোনো ড্রোন ঝাঁক নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রেখে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে এবং একই সঙ্গে অতিরিক্ত ড্রোন রিজার্ভ হিসেবে ধরে রাখতে পারে, তবে তা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক কৌশলে পরিণত হবে।

তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক প্রস্তুতি নিতে হতে পারে।

ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে এই তথ্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।

যদিও আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, তবুও পাইলটের এই দাবি সামনে আসার পর ড্রোন প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন সক্ষমতা ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতালির কোচ হতে রাজি নন গার্দিওলা

মহম্মদপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা

‘এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে’

মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরে পাল্টা হামলা ইরানের

ওদেসা বন্দরে রুশ হামলায় ৪ ভারতীয়সহ নিহত ১০

ইরানকে মার্কিন সেনা হত্যার ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে: ট্রাম্প

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেললাইন অবরোধ, বন্ধ ট্রেন চলাচল

‘আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয়ে মেসির অবস্থান চিরকাল অমলিন থাকবে’

ভারতে মোদি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ, ‘তেলাপোকারা’ চলে এসেছে সংসদ পর্যন্ত

যশোরসহ ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্নে

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা

তিতুমীর কলেজে হল ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

যশোরসহ ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধন

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

কালীগঞ্জে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস, দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

আজ সোনার ভরি কত?

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

সংসদ অভিমুখে ফের পদযাত্রা করবে সিজেপি, উত্তপ্ত দিল্লির যন্তর মন্তর

X