বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
এল নিনো ২০২৬:

বিশ্বজুড়ে খরা-বন্যা ও খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

শক্তিশালী ঝড়ো জলবায়ু সংকেত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০০ এএম
এল নিনো ২০২৬: ভয়াবহ জলবায়ু সংকেত, বিশ্বজুড়ে খরা-বন্যা ও খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে যে জলবায়ুগত ঘটনা, সেই এল নিনো আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)।

বিজ্ঞানীদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো অতীতের বহু রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে এবং এটি হতে পারে গত ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনা। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে পেরুর জেলেরা বড়দিনের সময় প্রশান্ত মহাসাগরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করেছিলেন। তারা একে “এল নিনো” (অর্থ: শিশু যিশু) নামে অভিহিত করেন।

বর্তমানে এটি একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চক্র হিসেবে পরিচিত, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুপ্রবাহ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা বদলে যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তিশালী এল নিনো সাধারণত তখনই ধরা হয় যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান আন্তর্জাতিক মডেল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত তাপমাত্রা ২.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ছিল ১৯৮২-৮৩ সালের, যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের এল নিনো সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয় না। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে মিলিত হয়ে এর প্রভাব আরো তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৯৭-৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর পর ১৯৯৮ সাল সে সময়ের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল।

একইভাবে ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর পর ২০১৬ সালে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। বর্তমানে ২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডধারী। সে বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, ২০২৭ সাল আরো উষ্ণ হতে পারে। এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে এক রকম হয় না। কোথাও খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত ৯ জুন সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাহেল অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা গিয়েছিল।

এফএওর মতে, সোমালিয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত খরা চলতে পারে। এরপর ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দীর্ঘ খরার পর অতিবৃষ্টি পরিস্থিতি আরো খারাপ করতে পারে। কারণ শুকিয়ে যাওয়া মাটিতে বৃষ্টির পানি সহজে শোষিত হয় না, ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাও খরার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অঞ্চল এরই মধ্যে যুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জটিলতার কারণে সার সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, চাদ, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও হাইতির মতো দেশগুলো মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। এল নিনো বিশ্বের প্রভাবশালী জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর একটি।

১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বহু অঞ্চলে ভয়াবহ খরা, বন্যা এবং খাদ্যসংকট সৃষ্টি করেছিল। এবারও বিজ্ঞানীরা একই ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন। এল নিনো ২০২৬ যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী শক্তিশালী হয়, তবে এটি বিশ্বজুড়ে নতুন জলবায়ু সংকট তৈরি করতে পারে। ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছাতে পারে এবং খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সতর্কতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ববাজারে কমছে স্বর্ণের দাম

আদিতমারীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক ১

আজ সব তফসিলি ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ

আগামী ৫ দিন বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জিতে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

আজ ১ জুলাই: / যেভাবে শুরু হয়েছিল জুলাই আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানে

বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সুচি

কেন আল্লাহর কাছে গোপন ইবাদত সবচেয়ে প্রিয়?

ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে: কেমন হবে লড়াই?

বয়স ধরে রাখতে চাইলে পান করুন আমলকীর রস

হালান্ড কি আসলেই মানুষ, নাকি গোলমেশিন ?

এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

এআই কি চাকরি কমাচ্ছে নাকি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে?

১ জুলাই: ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

আগ্নেয়গিরি থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ছড়ায়

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ, দান কমাচ্ছেন ভক্তরা

আইভরিকোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, প্রতিপক্ষ এবার ব্রাজিল

৮৬ মিনিটে হলান্ডের ম্যাজিক, এগিয়ে গেল নরওয়ে

দিয়ালোর জাদুকরী গোল / নরওয়ের বিপক্ষে আইভরিকোস্টের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

নুসার জাদুকরী গোল, বিরতির আগেই লিড নিল নরওয়ে

X