মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরানের কৌশলেই হরমুজ থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ইরানের কৌশলেই হরমুজ থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে গোপনে একের পর এক ‘শিপ-টু-শিপ’ তেল স্থানান্তর পরিচালিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আকাশ ও নৌ ড্রোন, এমনকি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ট্যাংকারগুলোকে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর প্রান্তে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যেসব কৌশল ব্যবহার করে আসছে ইরান, সেই ধরনের পদ্ধতিই এখানে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল এবং ওমানের সোহার বন্দরের কাছাকাছি দুটি নির্দিষ্ট এলাকায় এই অপারেশন চলছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ১১৬টি জাহাজ এই শিপ-টু-শিপ তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে অংশ নেয়। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, একাধিক ট্যাংকার জোড়া পাশাপাশি অবস্থান করে তেল আদান-প্রদান করছে।

গত ১১ জুন এই কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, সেদিন দুইটি পৃথক এলাকায় একসঙ্গে ১৭ জোড়া জাহাজে তেল স্থানান্তর চলতে দেখা যায়। সম্প্রতি মঙ্গলবার সকালেও ওমান উপসাগরে একাধিক জাহাজ একই ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই পুরো অপারেশন সমন্বয়ে আকাশ ও নৌ ড্রোন, এমনকি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি ঘটনায় ৯ জুন একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ওই হেলিকপ্টার তেল স্থানান্তর মিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল কি না তা নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই ধরনের শিপ-টু-শিপ তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে অংশ নেয় না। তবে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযানে ড্রোন নৌকার সহায়তা নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাহাজগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং আলো নিভিয়ে নির্দিষ্ট রুটে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। এরপর নির্ধারিত স্থানে বড় ট্যাংকারের পাশে গিয়ে তেল স্থানান্তর সম্পন্ন করা হয়, যা শেষ হতে ২৪ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান পথ। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই রুটে একাধিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্থায়ী ব্যবস্থা জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনাও আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরসহ ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধন

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

কালীগঞ্জে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস, দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

আজ সোনার ভরি কত?

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

সংসদ অভিমুখে ফের পদযাত্রা করবে সিজেপি, উত্তপ্ত দিল্লির যন্তর মন্তর

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

২১ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে: মির্জা ফখরুল

হাম ও ডেঙ্গু দু’টোই প্রতিরোধ জরুরি

গোপালগঞ্জে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

ভারি বৃষ্টিতে সাজিয়ালীর ব্রিজ ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে, বিকল্প পথে চলছে যাতায়াত

নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা

বাঘারপাড়ায় ট্রাকচাপায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

যশোর জেলা স্যানিটারি ও নলকূপ ব্যবসায়ী সমিতি   / নির্বাচন ঘিরে উৎসব আমেজ পাইপপট্টিতে১৩ পদের জন্য লড়াইয়ে ২৫ প্রার্থী

কিশমিশ খেলে মিলবে ৭ উপকারিতা

গোস্ত কিনতিও হ্যারেজ খাতি হয় 

চিকিৎসা যাবে সবার দুয়ারে: প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

অবশেষে ঝিকরগাছায় নির্মিত হচ্ছে মডেল মসজিদ

অভয়নগরে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে রান্নার চুলা বিতরণ

X