
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি)। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে দলটি। নির্বাচনী ভরাডুবির পর এবার দলীয় বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে চাপে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলটি।
বুধবার (তারিখ অনুযায়ী) দলের ৫৮ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দেন। ওই চিঠিতে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনোনয়নের প্রস্তাব করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিধায়কদের বিদ্রোহের ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, দলের সব সাংগঠনিক কমিটি এবং শাখা ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সতর্ক পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলজুড়ে আত্মসমালোচনা, সাংগঠনিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং পুনর্গঠনের একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে মূল দল, শাখা সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসনের পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিধানসভায় প্রবেশের সুযোগ হারান।
এরপর তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনয়ন দিলেও দলের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে আসে।
বিদ্রোহী ৫৮ বিধায়ক নতুন বা আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ থাকলেও পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া উপ-দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম।
দলীয় সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেদের নতুনভাবে প্রস্তুত করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির দাবি, সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত এবং কার্যকর করার লক্ষ্যেই পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে ৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটিতে যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম