
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা বা ‘গ্রিনব্যাক’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি নতুন ২৫০ ডলারের নোট চালুর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা দেশটির মুদ্রা মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং’-কে নতুন এই নোটের ডিজাইন প্রস্তুতের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি মার্কিন মুদ্রায় স্থান পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মুদ্রা নীতিতে সাধারণত প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট, জাতীয় নেতা ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি ব্যবহার করা হয়। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৮০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি মার্কিন মুদ্রায় দেখা গিয়েছিল।
এ কারণে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত সম্ভাব্য নতুন নোটকে শুধু একটি আর্থিক পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ ডলারের নোটই সর্বোচ্চ প্রচলিত কাগুজে মুদ্রা। তাই হঠাৎ করে ২৫০ ডলারের নতুন নোট চালুর আলোচনা অনেকের মধ্যেই কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বজুড়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—কেন এই বিশেষ মূল্যমানের নোট চালুর চিন্তা করা হচ্ছে এবং কেন তাতে বর্তমান প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তার অংশ হতে পারে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন মুদ্রানীতি ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
তবে পুরো বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। মার্কিন মুদ্রা মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং’ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ২৫০ ডলারের নোট বাস্তবে চালু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
মন্তব্য করুন