
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকার একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোমিন মিয়া এবং অন্যজন নরসিংদীর জয়েনা আক্তার।
জানা গেছে, বিস্ফোরণে জয়েনা আক্তারের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহতদের বর্তমানে নাবাতিহের রাগেব হার্ব হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরবর্তীতে দক্ষিণাঞ্চলের সাইদাতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬ জনে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্যও রয়েছেন।
তারা ভোরে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে আদলুন হাইওয়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন। এই মহাসড়কটি সাইদা ও টাইর শহরের সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্য করা হয়, যাকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘হত্যাচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী। এলাকাটিতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
লেবানন সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, নাবাতিহে ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকাতেও আরও সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। টাইর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মন্তব্য করুন