
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, মূলত দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
হিব্রু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্যগত বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার অসুস্থতা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার অভিযোগ ওঠায় সমালোচনা বাড়ছে।
গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সম্প্রতি হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টারে প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারজনিত টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তার দাবি ছিল, চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রচারণায় ব্যবহার হতে পারত। তবে তিনি কবে রোগ শনাক্ত হয়েছিল বা চিকিৎসা কখন শুরু ও শেষ হয়েছে— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার সঙ্গে একটি বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যানসার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথিও প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদনে সীমিত তথ্য থাকায় এবং হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক লোগো বা চিকিৎসা বিবৃতি না থাকায় তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর শরীরে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়।
নেতানিয়াহুর পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, তিনি পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য রামাত গানের সেবা মেডিক্যাল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয় ও হাসপাতাল। যখন হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এক সপ্তাহ পর চিকিৎসকেরা স্বীকার করেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় তার ইসিজি পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছিল। যদিও তারা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র তখনও ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ ছিল।
মন্তব্য করুন