
বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু হিসেবে ইতিহাস গড়েছে ‘ভিয়াতিনা ১৯’ নামের একটি নেলোর প্রজাতির গরু। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত এক নিলামে গরুটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ কোটি টাকার সমান। এই বিশাল মূল্যের কারণে গরুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরু হিসেবে স্থান পেয়েছে।
২০২৩ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের আরন্দু শহরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ নিলামে ‘ভিয়াতিনা ১৯’-এর মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি ওজনের এই গরুর আংশিক মালিকানা প্রথমে ১৪ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এর মূল্য বাড়তে থাকে। সব মিলিয়ে গরুটির মোট বাজারমূল্য ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৮ লাখ ডলারে পৌঁছায়। এতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল গবাদিপশুর রেকর্ড গড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নেলোর’ প্রজাতির গরুর অসাধারণ জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর এত উচ্চ মূল্য। এই জাতের গরু সাধারণত উজ্জ্বল তুষার-সাদা রঙ, বিশাল আকৃতি এবং শক্তিশালী শারীরিক গঠনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
নেলোর গরুর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর উন্নত জিনগত মান। উন্নত প্রজনন সক্ষমতা, দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্চমানের দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য এই জাতের গরুর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এই জাতের দুধে পুষ্টিগুণও তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হয়।
বর্তমানে ব্রাজিলে নেলোর গরুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও এই জাতের মূল উৎপত্তি ভারত। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলার নাম অনুসারেই এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৬৮ সালে প্রথম এক জোড়া নেলোর গরু জাহাজে করে ব্রাজিলে নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে দেশটিতে এই জাতের বিস্তার ঘটে। বর্তমানে ব্রাজিলের গবাদিপশু শিল্পে নেলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান জাত হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে কুরবানির পশুর হাটে কয়েক লাখ টাকার গরু আলোচনায় এলেও বিশ্বের অন্য প্রান্তে প্রায় ৫৯ কোটি টাকায় একটি গরু বিক্রির ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নত জিনগত মানসম্পন্ন গবাদিপশু উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বিশ্বের কৃষি ও পশুপালন খাতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন