
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ব্রিটেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। বুধবার থেকে এই অনুমোদন কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপজুড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার তেল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এই অনুমোদনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়নি। সরকার বলেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করবে না। বরং রাশিয়া থেকে তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ওই দেশের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর তা ব্রিটেনে আমদানি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে একদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সহজ হবে, অন্যদিকে সরাসরি রুশ তেল আমদানির রাজনৈতিক বিতর্কও কিছুটা এড়ানো যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়ার ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা। এর অংশ হিসেবে রুশ তেল আমদানির ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল মস্কোর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা।
তবে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে ব্রিটেন।
মন্তব্য করুন