মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইসরায়েলকে রক্ষায় থাড ইন্টারসেপ্টরের অর্ধেকই ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের থাড ইন্টারসেপ্টর  ¦ ছবি:  রয়টার্স

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলকে সহায়তা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক টার্মিনাল হাই–অল্টিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স–থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করেছে।

এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, মজুত পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ১০০টির বেশি এসএম–৩ ও এসএম–৬ ইন্টারসেপ্টরও ছোড়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিড স্লিং’স সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইসরায়েল তাদের কিছু প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সাময়িকভাবে সরিয়ে নিচ্ছে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল একা যুদ্ধ করে জিততে সক্ষম নয়। কিন্তু বাস্তবে কেউ এটা জানে না, কারণ তারা কখনো পেছনের দিকটা দেখে না।’

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এই প্রতিবেদনে ‘ভারসাম্য রাখা হয়নি’ উল্লেখ করে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টর বিশাল প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতার মাত্র একটি উপাদান।’ ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন আর কোনো অংশীদার নেই, যার ইসরায়েলের মতো সামরিক সদিচ্ছা, প্রস্তুতি, অভিন্ন স্বার্থ ও সক্ষমতা রয়েছে।’

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন আর কোনো অংশীদার নেই, যার ইসরায়েলের মতো সামরিক সদিচ্ছা, প্রস্তুতি, অভিন্ন স্বার্থ ও সক্ষমতা রয়েছে।’

ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে যে, তাদের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত মাসে দেশটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। তবে সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তাদের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক গোলাবারুদের যথেষ্ট মজুত রয়েছে।

ইসরায়েলের রয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিভিন্ন উচ্চতায় আসা হুমকি মোকাবিলায় সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করে। এর সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অ্যারো সিস্টেম। অ্যারো–২ বায়ুমণ্ডলের ভেতর এবং মহাকাশ উভয় জায়গাতেই কাজ করতে পারে। আর অ্যারো–৩ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে। একটি অ্যারো–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ ডলার। এটি তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সঠিক সময়সীমা প্রকাশ করেনি ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তার উদ্দেশ্য ছিল ইরানি শাসনব্যবস্থার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ বিভিন্ন হুমকি দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং ‘এমন পরিস্থিতি তৈরি করা’, যাতে ইরানের জনগণ সরকার উৎখাত করতে পারে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নেতারা এমন কথাই বলেছেন।

যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২১ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নিহত হন। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে নিহত হন আরও চার ফিলিস্তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শত শত কেজি বিস্ফোরক বহনকারী অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এছাড়া ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলারও ৫০টির বেশি ঘটনা ঘটে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

X