
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।
ইরানের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে জটিলতায় পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের মজুদ ধরে রাখতে দেবে না।
অন্যদিকে ইসরায়েলও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ছাড়া তারা যুদ্ধের সমাপ্তি মনে করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে দেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। সেই কারণেই খামেনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।
যদিও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে, তবুও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস কমেনি। ইরানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
ইরানের শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও অভিযোগ করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে পারমাণবিক মজুদ সীমিত করার মতো সমাধান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সময় ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। বর্তমানে সেই মজুদের কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন, অবশিষ্ট ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত রয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, সেখানে ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম থাকতে পারে। এছাড়া নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও কিছু মজুদ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন