
ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দেশটির সাবেক কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংঘাতে ইরানে সম্ভাব্য শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য সামনে রেখে বহুস্তর বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তেহরানে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বিশেষ হামলা চালায়।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের অভ্যন্তর থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসা উচিত।
এরপর তদন্তে উঠে আসে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আহমাদিনেজাদকে সামনে রেখেই শাসন পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তেহরানে তার বাসভবনে চালানো বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদ আহত হলে পুরো পরিকল্পনাটি কার্যত ভেস্তে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল লক্ষ্য ছিল আহমাদিনেজাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের হত্যা করে তাকে মুক্ত করা। হামলায় তার নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস হয় এবং কয়েকজন রক্ষী নিহত হন। তবে আহমাদিনেজাদ প্রাণে বেঁচে গেলেও পরে তিনি এ পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ান এবং এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজকে সামনে এনে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করেছিল, ঠিক সেই ধরনের একটি মডেল ইরানেও প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিনবার তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে তেহরানের নারমাক এলাকায় গৃহবন্দি রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ কঠোর পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন। তিনি ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জোরালো সমর্থনের কারণে পরিচিত ছিলেন।
এ কারণেই তাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবর অনেক বিশ্লেষকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ ট্রাম্পের প্রশংসা করেছিলেন, যা নতুন করে নানা জল্পনার জন্ম দেয়।
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরিতে তার সফর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পর এখন কূটনৈতিক পর্যায়ে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য একটি চুক্তির দিকে কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন