
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কৌতুকপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় এবং জনগণের বড় অংশের সমর্থন তার প্রতি রয়েছে।
মার্কিন কোস্ট গার্ড একাডেমির বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ করার পর তিনি ইসরায়েলে গিয়ে সরকারপ্রধান হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
তার ভাষায়, তিনি একটি জনমত জরিপ দেখেছেন যেখানে ইসরায়েলের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ তাকে সমর্থন করে—যদিও তিনি সেই জরিপের উৎস বা প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করেননি।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে যে জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করেছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রেক্ষাপট প্রকাশ করেননি। একইভাবে হোয়াইট হাউস থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান ও ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মিত্র হিসেবে বিশ্বরাজনীতিতে পরিচিত।
ফোনালাপ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূত্রে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ভালো আছেন এবং তিনি একজন খুব ভালো মানুষ। আমি তার কাছে যা চাইব, তিনি মূলত মার্কিন স্বার্থে তাই করবেন।’
একই সাথে নেতানিয়াহুকে একজন যোগ্য ‘যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংকটের সময়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যেভাবে মূল্যায়ন করা উচিত, সেখানে তাকে বা তার অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
সূত্র: ইউএসএ টুডে।
মন্তব্য করুন