
বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে ইরান। দেশটির পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি এই জলপথে নতুন করে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নির্ধারিত অঞ্চলের ভেতর দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ বা নৌযান চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ও সমন্বয় গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সীমানাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রবেশপথের বিস্তৃত এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে প্রচলিত “মুক্ত নৌচলাচল” নীতির ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এই জলপথটি যেহেতু বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, তাই এর যেকোনো পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের এই নতুন নীতি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে তার কৌশলগত প্রভাব আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম ও সরবরাহ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এদিকে ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা দেশগুলো এই পদক্ষেপকে ঘিরে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন