মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রয়টার্সের প্রতিবেদন

ট্রাম্পের চাপের মুখেও ইরানের অবস্থান কেন কঠোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ট্রাম্পের চাপের মুখেও ইরানের অবস্থান কেন কঠোর

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক কৌশল। শুল্কনীতি, অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক হুমকি এবং কঠোর বক্তব্য—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পুরোনো ধাঁচের ‘চাপ প্রয়োগভিত্তিক’ কৌশলেই এগোচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেত্রে সেই কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের হতাশা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এরপরও ওয়াশিংটন কোনো ধরনের নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়নি। বরং ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে একের পর এক কঠোর বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে কম। ফলে বর্তমান অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মানসিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও সংকট সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ।

তবে এত চাপের মধ্যেও তেহরান এমন কোনো অবস্থান নিতে চায় না, যা জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দেশটির নেতৃত্ব নিজেদের মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে।

বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব ধরে রাখায় ইরান এখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির ক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো “সর্বোচ্চ চাপ” নীতির ওপর নির্ভর করছে। অনিশ্চয়তা, কঠোর ভাষা, প্রকাশ্য হুমকি ও মিশ্র বার্তা—সব মিলিয়ে তাদের কৌশল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এ সংঘাত থেকে এমনভাবে বের হতে চান, যেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। একইভাবে ইরানও সম্পূর্ণ পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আলোচক রব ম্যালি বলেন, কোনো সরকারই আত্মসমর্পণ করেছে—এমন ধারণা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে না। তার মতে, এ মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাই সমঝোতার বড় বাধা।

রব ম্যালি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যেও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান পার্টিও চাপের মুখে রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের কৌশলকে সঠিক বলেই দাবি করছে। মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন দক্ষ আলোচক এবং তার কৌশল এরই মধ্যে বহু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। তার দাবি, ইরানই এখন সমঝোতার জন্য বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো তার প্রকাশ্য হুমকি। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সতর্ক করেন, কোনো চুক্তি না হলে ইরানের ‘সভ্যতাই ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এ বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি কোনো সুপরিকল্পিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ ছিল না।

এরপরও ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। কখনো বলেছেন, ইরান ‘সমঝোতার জন্য অনুনয় করছে’, আবার কখনো ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। কিন্তু তেহরান এসব বক্তব্য অস্বীকার করেছে। বরং ইরান নিজেদের টিকে থাকাকেই বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে এবং দাবি করছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের অতিরিক্ত কঠোর ভাষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা ডেনিস রস বলেন, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত ধৈর্যের অভাব এবং বক্তব্যের অসংগতি তার নিজের বার্তাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের কৌশল সফল হয়েছে—যেমন বাণিজ্য আলোচনায় বা ভেনেজুয়াকে ঘিরে মার্কিন পদক্ষেপে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ভিন্ন। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের গভীর প্রভাব এবং দেশটির দীর্ঘ ঐতিহাসিক গৌরবের কারণে শুধু চাপ প্রয়োগ করে তাদের নতি স্বীকার করানো সম্ভব নয়।

বরং অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের হুমকি ইরানের নতুন নেতৃত্বকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক পদক্ষেপের কারণে তেহরানের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাও কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তা নেট সোয়ানসন বলেন, অনেকেই মনে করেন অতিরিক্ত চাপ দিলে ইরান আত্মসমর্পণ করবে, কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি এভাবে কাজ করে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

আদিতমারীতে তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

X