
পশ্চিম তীরের ইয়ানুন গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মুখে নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা। একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এই গ্রাম এখন সম্পূর্ণ জনশূন্য ও পরিত্যক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ানুন গ্রামের কৃষক রশিদ মুররার নিজের ঘরবাড়ি হারানোর বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছি, অথচ আজ আমাকে নিজের বাড়ি থেকেই জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত বছর থেকেই ধীরে ধীরে গ্রামটি খালি হতে শুরু করে। বর্তমানে ইয়ানুন পুরোপুরি পরিত্যক্ত একটি ভূতুড়ে গ্রামে রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামটির ১৬ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জমি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
রশিদ মুররার জানান, বসতি স্থাপনকারীরা প্রথমে গ্রামের রাস্তাঘাট দখল করে নেয় এবং ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে শুরু করে। প্রতিদিন তল্লাশি ও হেনস্তার পাশাপাশি বাইরের মানুষদের গ্রামে প্রবেশও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি ভেড়ার খাদ্য বহনকারী ট্রাকও গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আমি মাঠে ফসল চাষ করতাম। কিন্তু বসতি স্থাপনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে আমার পুরো ফসল নষ্ট করে দিত।”
বর্তমানে বসতিস্থাপনকারীরা ইয়ানুন গ্রামে একটি বিশাল গেট বা ফটক তৈরি করেছে, যাতে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিরা আর কখনোই নিজেদের গ্রামে ফিরতে না পারেন। এর পাশাপাশি ওই এলাকায় কোনো ফিলিস্তিনিকে দেখলেই তাদের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, ইয়ানুন গ্রামের এই নির্মম ঘটনাটি আসলে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং জমি দখলের যে বৃহত্তর ইসরায়েলি নীলনকশা চলছে, তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
মন্তব্য করুন