
স্বর্ণ কেনা থেকে ভারতীয় পরিবারগুলোকে এক বছর বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কেন এই আহ্বান ? আপাতদৃষ্টিতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক গভীর উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধরে রাখতেই মোদির এই কৌশল। কেন স্বর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
ভারতের অর্থনীতির জন্য অপরিশোধিত তেল ও স্বর্ণ উভয়ই বড় মাথাব্যথার কারণ। এই দুই পণ্যই ভারত মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় মার্কিন ডলারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম যখন বাড়ে এবং স্বর্ণের আমদানিও যদি উচ্চহারে বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমতে থাকে। তেল পরিবহন ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য হলেও স্বর্ণ কেনাকে মূলত ‘বিলাসী ব্যয়’ হিসেবে দেখা হয়। তাই সংকটের সময় স্বর্ণ আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতে চায় সরকার। আগেও এমন পদক্ষেপ দেখা গেছে
অতিরিক্ত সোনা আমদানির লাগাম টানতে ভারত আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অতীতে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, আমদানিতে কড়াকড়ি এবং কাগুজে স্বর্ণ বা গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প উৎসাহিত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে রুপির মান যখন রেকর্ড নিচে অবস্থান করছে, তখন তেলের বাড়তি দামের সঙ্গে স্বর্ণের আমদানি যোগ হলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাশ্রয়ের ডাক
মোদি কেবল স্বর্ণ না কেনার কথাই বলেননি, বরং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেল অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’ তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। যেখানে সম্ভব করোনা আমলের মতো বাড়িতে বসে কাজের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। একটি পরিবারের স্বর্ণ না কেনায় কি কিছু বদলাবে?
একটি পরিবার গয়না কেনা স্থগিত রাখলে রুপির মানে কোনও প্রভাব পড়বে না, এটি সত্য। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা দেখছেন সামগ্রিক চাহিদাকে। ভারত প্রতি বছর কয়েকশ টন স্বর্ণ আমদানি করে। বিয়ের মৌসুমে এই চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান বা গয়না কেনার বিরোধী না হয়ে মোদির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
মন্তব্য করুন